বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু, ওয়াক আউট করেও অধিবেশনে ফিরল তৃণমূল

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হলেন কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু। শুক্রবার স্পিকার নির্বাচনে বিরোধী শূন্য ময়দানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন তিনি। এদিন সকালেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি পরিষদীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আগামীর কৌশল নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে, অধিবেশনের শুরুতে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়করা কক্ষত্যাগ বা ওয়াক আউট করলেও পরবর্তী সময়ে তারা পুনরায় অধিবেশনে ফিরে আসেন, যা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ফেসবুক পোস্ট ও রথীন ঘোষের হাজিরা

রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে প্রবীণ নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। চার দশকের আনুগত্যের পর বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, দীর্ঘ টালবাহানার পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর তলবে সাড়া দিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী রথীন ঘোষ। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এর আগে পাঁচবার হাজিরা এড়িয়েছিলেন তিনি। এই হাজিরা রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা ও জনস্বার্থে সরকারের কড়া বার্তা

বিধানসভার সভার কাজের পাশাপাশি রাজ্য প্রশাসন শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর স্পষ্ট জানিয়েছেন, ধর্মীয় স্থান সহ সর্বত্র নির্দিষ্ট শব্দসীমা মেনে মাইক বাজাতে হবে। এই নির্দেশিকা অমান্য করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া চন্দ্রনাথ হত্যা মামলায় তদন্তের জাল আরও গুটিয়ে এনেছে সিবিআই। ঝাড়খণ্ড থেকে খুনে ব্যবহৃত গাড়ি সরবরাহের নেপথ্যে থাকা চক্রের হদিশ পেতে তদন্তকারীরা তৎপর হয়েছেন।

প্রভাব ও পরিপ্রেক্ষিত

রথীন্দ্রনাথ বসুর স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ বিধানসভার কার্যপরিচালনায় নতুন গতি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তৃণমূল বিধায়কদের অধিবেশনে ফিরে আসা এবং প্রবীণ নেতাদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। পাশাপাশি নিট পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণার ফলে লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে। ২১ জুন পুনরায় এই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সব মহল। মূলত প্রশাসনিক কড়াকড়ি এবং রাজনৈতিক পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এক নতুন মোড় নিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *