মূল্যবৃদ্ধির বাজারে ‘কষ্ট করার’ পরামর্শ! ঠিক কী বলতে চাইলেন দিলীপ ঘোষ?
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দামের জেরে ভারতজুড়ে রেকর্ড হারে বাড়ল পেট্রল, ডিজেল ও সিএনজির দাম। কলকাতায় এক ধাক্কায় পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি ৩.২৯ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৩.১১ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। এই চরম মূল্যবৃদ্ধির আবহে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়ে গেছে। বিশ্ব সংকটের কথা মনে করিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে আগাম প্রস্তুতি ও ‘আগে কষ্ট করার’ পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির লোকসান
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং মূল্যবৃদ্ধিই দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির দাম বাড়ার মূল কারণ। দিলীপ ঘোষ এই মূল্যবৃদ্ধিকে যৌক্তিক দাবি করে জানান, এতদিন দাম না বাড়ানোর ফলে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি হাজার হাজার কোটি টাকার লোকসান গুনছিল। বৈশ্বিক এই সংকট থেকে ভারত বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৪০টি দেশ থেকে তেল আমদানি করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে এক ধরণের ক্রাইসিস বা সংকট তৈরি হয়েছে। যার ফলে সরকার বাধ্য হয়েই দীর্ঘদিন পর এই দাম বাড়িয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধির দেশীয় প্রভাব ও ভবিষ্যতের সতর্কতা
নতুন এই দাম বৃদ্ধির ফলে কলকাতায় আজ থেকে প্রতি লিটার পেট্রল ১০৮.৭৪ টাকা এবং ডিজেল ৯৫.১৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানী দিল্লি, মুম্বই এবং চেন্নাইতেও জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পাশাপাশি সিএনজির দামও কেজিতে ২ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহন খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সতর্কবার্তার প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ ঘোষ বলেন, সংকট মাথায় রেখে ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সবাইকে সাবধান হতে হবে। আগে থেকে কিছুটা কষ্ট স্বীকার করলে আগামী দিনে বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে।