ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরার বার্তা বিধানসভায়, কড়া শর্ত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজনৈতিক আবহ। বিধানসভার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনা এবং নতুন স্পিকার নির্বাচনের মতো একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপের মাঝেই ছায়া ফেলল রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আনা ‘ঘরছাড়া’ কর্মীদের অভিযোগের জবাবে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, শর্তসাপেক্ষে ঘরছাড়াদের ফেরাতে সাহায্য করবে প্রশাসন, তবে অপরাধীদের স্থান হবে কেবল জেলে।
বিতর্কের সূত্রপাত ও মুখ্যমন্ত্রীর কড়া শর্ত
অধিবেশন চলাকালীন তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ তোলেন, ভোটের সময় নানা আশ্বাসের কথা বলা হলেও বর্তমানে জনমানসে তীব্র ভীতি তৈরি হয়েছে এবং বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়ে পড়েছেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তাঁর জানামতে কেউ ঘরছাড়া নেই। তবে সত্যিই যদি এমন কেউ থেকে থাকেন, তবে তাঁর তালিকা যেন সরাসরি রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের (ডিজি) কাছে জমা দেওয়া হয়।
এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী একটি বড় শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, ঘরে ফিরতে চাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যেন ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকার কোনও অভিযোগ না থাকে। যদি কেউ নির্দোষ হন, তবে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক ও পুলিশ সুপার সসম্মানে তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসবেন। কিন্তু কারও বিরুদ্ধে হিংসার অভিযোগ প্রমাণিত হলে, তাঁকে সরাসরি জেলেই যেতে হবে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক অবস্থান
রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারের শুরুতেই আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে বিরোধীদের কোনওরকম বাড়তি সুবিধা দিতে নারাজ শাসক দল। একদিকে যেমন নির্দোষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে ২০২১ সালের রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী শিবিরকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর এই অনমনীয় অবস্থান স্পষ্ট করে দেয় যে, রাজনৈতিক সমঝোতার চেয়ে আইনি প্রক্রিয়াকেই অগ্রাধিকার দেবে বর্তমান প্রশাসন।
সংসদীয় গণতন্ত্রে স্বচ্ছতার নতুন অধ্যায়
এর আগে, ঐতিহাসিক ‘বন্দেমাতরম’ সঙ্গীতের মাধ্যমে ১৮তম বিধানসভার প্রথম অধিবেশন শুরু হয় এবং কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু সর্বসম্মতভাবে নতুন অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন। সংসদীয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এদিন একটি বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন থেকে বিধানসভার সমস্ত কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে আসন পুনর্বিন্যাসের কথা মাথায় রেখে একটি নতুন ও আধুনিক বিধানসভা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। নতুন সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।