বিরাট পদক্ষেপ, ৩ আইপিএস সাসপেন্ড করে মমতার ভূমিকা তদন্তের নির্দেশ শুভেন্দুর
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে নতুন মোড় এল রাজ্যে। তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে কর্তব্যে গাফিলতি ও তথ্য গোপনের অভিযোগে রাজ্যের তিন প্রভাবশালী আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। আজ নবান্নে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক থেকে এই বড় ঘোষণা করেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাসপেন্ড হওয়া আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার বিনীত গোয়েল, প্রাক্তন ডিসি (নর্থ) অভিষেক গুপ্ত এবং তৎকালীন ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। একই সঙ্গে এই ঘটনায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কী ভূমিকা ছিল, তাও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।
তদন্তে গাফিলতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
২০২৪ সালের অগস্টে আরজি করের সেই নৃশংস ঘটনার সময় বিনীত গোয়েল ছিলেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার, অভিষেক গুপ্ত ডিসি (নর্থ) এবং ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ডিসি (সেন্ট্রাল) পদে কর্মরত ছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে মুখ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে লিখিত রিপোর্ট চেয়েছিলেন। প্রাথমিক তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঘটনার পর প্রাথমিক এফআইআর দায়ের ও পদক্ষেপ করার ক্ষেত্রে চরম মিসহ্যান্ডেলিং বা গাফিলতি করা হয়েছিল। এমনকি নির্যাতিতার পরিবারকে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি সেজে টাকা বা এক প্রকার ঘুষ দিয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে তৎকালীন পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে। নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের স্বার্থেই এই তিন অফিসারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হচ্ছে।
কল লিস্ট ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট খতিয়ে দেখার নির্দেশ
ঘটনার গভীরতা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, সিবিআই যে মূল মামলার তদন্ত করছে তাতে রাজ্য সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। তবে রাজ্য পুলিশের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও তৎকালীন রাজনৈতিক মহলের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারদের কল লিস্ট এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট রেকর্ড পরীক্ষা করা হবে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অন্য কোনো মন্ত্রীর কাছ থেকে তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার কোনো মৌখিক বা লিখিত নির্দেশ ছিল কি না, তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়া, যথাযথ অনুমতি ছাড়া পুলিশের তৎকালীন এক নারী আধিকারিকের বিতর্কিত সাংবাদিক বৈঠক করার বিষয়টিকেও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
পানিহাটির বর্তমান বিধায়ক তথা নির্যাতিতার মায়ের সাম্প্রতিক আইনি আবেদনের পরই রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল। এর ফলে আরজি কর কাণ্ডের নেপথ্যে থাকা বড় কোনো প্রশাসনিক ষড়যন্ত্রের জাল উন্মোচিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।