‘সেই ডিনার টেবিলেই লুকিয়ে রহস্য?’ বিস্ফোরক দাবি তিলোত্তমার মায়ের

আরজি কর কাণ্ডের তদন্তে ফের বড়সড় মোড়। তিলোত্তমা হত্যা মামলার ফাইল নতুন করে খোলাই শুধু নয়, একযোগে সাসপেন্ড করা হলো কলকাতা পুলিশের তৎকালীন কমিশনার বিনীত গোয়েলসহ তিন হেভিওয়েট আইপিএস অফিসারকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই বিস্ফোরক ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিনীত গোয়েল ছাড়াও সাসপেন্ড হয়েছেন তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্ত। সরকারের এই কড়া পদক্ষেপের পর আরজি করের সুবিচারের দাবিতে থাকা আন্দোলনকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে।

তিলোত্তমার মায়ের বিস্ফোরক দাবি ও তদন্তের নতুন মোড়

প্রশাসনিক এই রদবদলের মাঝেই নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে নিহত চিকিৎসকের মায়ের বিস্ফোরক মন্তব্য। তাঁর স্পষ্ট দাবি, আরজি করের মতো একটি সুরক্ষিত জায়গায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছিল। ঘটনার দিন রাতে তাঁর মেয়ের সঙ্গে যে চারজন একসঙ্গে ডিনার করেছিলেন, তাঁদের গ্রেপ্তার করলেই আসল সত্য এবং নেপথ্যের সমস্ত চক্রান্ত সামনে চলে আসবে। তিলোত্তমার মায়ের এই বয়ান এবং আন্দোলনকারীদের দীর্ঘদিনের দাবি এবার তদন্তের অভিমুখকে আরও জোরালো করছে। আন্দোলনকারীদের অন্যতম মুখ কিঞ্জল নন্দ বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে উল্লেখ করেছেন, ঘটনার পেছনে এক বা একাধিক অপরাধী জড়িত ছিল এবং শুরু থেকেই বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার যে চেষ্টা চলছিল, তা এখন ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা ও প্রশাসনিক প্রভাব

আইপিএস অফিসারদের সাসপেন্ড করার পাশাপাশি এই ঘটনার জল যে আরও দূর গড়াবে, সেই ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সময়কার ফোন কল রেকর্ড এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট খতিয়ে দেখা হবে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো নির্দেশ বা ভূমিকা এর পেছনে ছিল কি না, তাও তদন্তের বাইরে থাকছে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ স্তরের পুলিশ কর্তাদের বিরুদ্ধে এই কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে আগামী দিনে আরজি কর কাণ্ডের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের মুখোশ খুলে যেতে পারে। একই সঙ্গে, পুলিশের বড় কর্তাদের এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর এক গভীর প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *