হাসপাতালের রোগ সারাতে এবার কড়া দাওয়াই খোদ মুখ্যমন্ত্রীর!
রাজ্যের বেহাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার হাল ফেরাতে এবং সরকারি হাসপাতালগুলির দীর্ঘদিনের ‘রোগ’ সারাতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এসএসকেএম হাসপাতালে স্বাস্থ্য অধিকর্তা এবং কলকাতার বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন তিনি। এই বৈঠক থেকে রাজ্যের চিকিৎসা পরিষেবাকে দুর্নীতিমুক্ত ও গতিশীল করতে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
দালালরাজ ও রেফার-রোগ রুখতে কড়া নজরদারি
সরকারি হাসপাতালগুলিতে সাধারণ মানুষের হয়রানির অন্যতম প্রধান কারণ হলো দালাল চক্রের দাপট এবং এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রোগী ‘রেফার’ করার প্রবণতা। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই দালালরাজ এবং অহেতুক রেফার করার মানসিকতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। হাসপাতালের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক থেকে শুরু করে সমস্ত স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) পরিধান করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যভবনে ওয়াররুম এবং সরাসরি নিয়ন্ত্রণ
পরিষেবার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য স্বাস্থ্যভবনে একটি আধুনিক ‘ওয়াররুম’ তৈরি করা হচ্ছে। এই ওয়াররুমের সরাসরি ডিজিটাল সংযোগ থাকবে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে। এর ফলে হাসপাতালের প্রতিদিনের পরিস্থিতি, শয্যার প্রাপ্যতা এবং রোগীদের হয়রানির মতো বিষয়গুলি মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এছাড়া, সাধারণ মানুষের চিকিৎসার পরিধি আরও বাড়াতে বেসরকারি হাসপাতালগুলির ১৫ শতাংশ শয্যা ব্যবহার করার বিষয়েও দ্রুত বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি।
প্রশাসনের এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন হাসপাতালগুলিতে দালালদের প্রভাব কমবে, অন্যদিকে রেফার-রোগ বন্ধ হলে প্রত্যন্ত এলাকার রোগীরাও সঠিক সময়ে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। পরিকাঠামোগত এই আমূল পরিবর্তন রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় দীর্ঘমেয়াদি ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।