বিধানসভায় স্লোগান নিষিদ্ধের দাবি তুলে শোরগোল ফেললেন তাপস রায়!
১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের বাকযুদ্ধ এক অভূতপূর্ব মাত্রা ছুঁল। নতুন অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেচ্ছা-বক্তব্য পর্বের শেষলগ্নে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলেন বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়। বিধানসভার অন্দরে দাঁড়িয়ে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ ও ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান বন্ধ করার জন্য সরাসরি আইন আনার দাবি তুলেছেন তিনি, যার পরোক্ষ নিশানায় রয়েছে তাঁরই পুরনো দল তৃণমূল কংগ্রেস।
বিতর্কের সূত্রপাত ও বিধানসভার উত্তপ্ত আবহ
অধ্যক্ষের আসন গ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সৌজন্যমূলক বক্তব্যের পর মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়কে বলতে ডাকা হয়। বক্তৃতার শুরুতেই সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনকে কেবল সরকার গঠনের লড়াই না বলে, একে এক প্রকার ‘ধর্মযুদ্ধ’ বলে আখ্যা দেন তিনি। এরপরই অধ্যক্ষের উদ্দেশে তিনি আবেদন জানান, বিধানসভার ভেতরে যেন কোনওভাবেই রাষ্ট্রবিরোধী বা দেশবিরোধী স্লোগান বরদাস্ত করা না হয়। এই মন্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও সমর্থন জানাতে দেখা যায়।
তাপস রায়ের এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধী বেঞ্চে থাকা তৃণমূল বিধায়কদের একাংশ তীব্র প্রতিবাদে সরব হন। নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মোসারফ হোসেনের মতো বিধায়কদের চিৎকারে কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাপস রায়ও পাল্টা আক্রমণ শানান। এক সর্বভারতীয় নেতার পুরনো হুঁশিয়ারির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ভয় দেখিয়ে রাজনীতি করার দিন শেষ এবং সাধারণ মানুষই এখন এর জবাব দেবে। ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগকেও তিনি অতীতে ঘটে যাওয়া হিংসার খতিয়ান টেনে কটাক্ষ করেন।
স্লোগান নিষিদ্ধকরণের দাবি ও রাজনৈতিক প্রভাব
বিতর্কের আসল কারণটি আরও স্পষ্ট হয় অধিবেশন শেষে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাপস রায় সরাসরি দাবি করেন, ‘জয় বাংলা’, ‘মা-মাটি-মানুষ’ কিংবা ‘খেলা হবে’—এই স্লোগানগুলি পশ্চিমবঙ্গের নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। ফলে বিধানসভার মতো একটি পবিত্র সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে এই ধরণের স্লোগান ব্যবহার সম্পূর্ণ অনুচিত এবং প্রয়োজনে আইন এনে এগুলি নিষিদ্ধ করা উচিত।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাতের নেপথ্যে রয়েছে রাজ্যের ক্ষমতার হাতবদল এবং পুরনো দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াই। তাপস রায়ের এই দাবি আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সম্পর্ককে আরও তিক্ত করতে পারে। বিধানসভার প্রথম দিনেই স্লোগানকে কেন্দ্র করে যে মেরুকরণের রাজনীতি স্পষ্ট হলো, তা আগামী দিনে আরও বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।