মুখ্যমন্ত্রী হয়েই বড় চমক শুভেন্দু অধিকারীর, জুনের শুরুতেই রাজ্যে জোড়া জনকল্যাণমুখী প্রকল্প

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য একযোগে দুটি বড় প্রকল্পের ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে কার্যকর হতে চলেছে ‘১০০ দিনের কাজ’ এবং ‘জনতার দরবার’। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই দুটি প্রকল্পই সরাসরি জনগণের স্বার্থ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে এই কাজগুলো নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হলেও, নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েই দ্রুত সমস্যা সমাধানের পথে হেঁটেছে।
১০০ দিনের কাজে নতুন নিয়ম ও জেলার রূপরেখা
রাজ্যের গ্রামীণ ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের সহায়তায় পুনরায় চালু হচ্ছে ১০০ দিনের কাজ। তবে আদালতের নির্দেশ থাকায় আপাতত মুর্শিদাবাদ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় এই কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। এই দুটি জেলা বাদে রাজ্যের বাকি সব জেলাতেই জুনের প্রথম দিন থেকে কাজ শুরু হবে। দ্রুত কর্মসংস্থানের লক্ষে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর ইতিমধ্যেই জেলা স্তরে বৈঠক সম্পন্ন করেছে এবং উপভোক্তাদের কেওয়াইসি (KYC) লিঙ্কের কাজও প্রায় শেষের মুখে।
কেন্দ্রীয় স্তরে এই প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘বিকশিত ভারত- গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা সংক্ষেপে ‘VB-G RAM G’। কাজের টাকা যাতে প্রকৃত শ্রমিকরাই পান এবং কোনো আর্থিক দুর্নীতি না হয়, তার জন্য এবার কড়া নিয়মের পাশাপাশি আধার লিঙ্কড পেমেন্ট সিস্টেম বা ‘ALPS’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তিতে জনতার দরবার
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনা এবং সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনার জন্য ১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ‘জনতার দরবার’। এই অভিনব উদ্যোগের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করবেন। সাধারণ নাগরিকরা তাঁদের এলাকার রাস্তাঘাট, পানীয় জল, বার্ধক্য ভাতা, স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যা কিংবা স্থানীয় স্তরের যেকোনো দুর্নীতি নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ ও পরামর্শ জানাতে পারবেন।
ভবিষ্যতে এই দরবারে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্য মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন। এই জোড়া প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন গ্রামীণ স্তরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে সরকারি পরিষেবার ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।