সায়নী জীতু তরজা তুঙ্গে, বিচ্ছেদের তিন বছর পর মাঝরাতে নবনীতাকে নিয়ে লাইভে বিস্ফোরক অভিনেতা

টলিউডের অন্দরে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত তরজা এক নতুন মোড় নিল। অভিনেতা জীতু কমল এবং সাংসদ সায়নী ঘোষের মধ্যকার বাকযুদ্ধ এখন টলিপাড়ার প্রধান চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১৪ মে এক সাক্ষাৎকারে সায়নীকে নিয়ে জীতুর করা কিছু মন্তব্যের পর থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়, যা পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির রূপ নেয়।

পাল্টা পোস্ট ও কুকীর্তির অভিযোগ

জীতুর বক্তব্যের জবাবে তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন। সেখানে অভিনেতার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলার পাশাপাশি সায়নী দাবি করেন, জীতুর কিছু ‘কুকীর্তি’ নিয়ে নাকি অভিনেতার প্রাক্তন স্ত্রী নবনীতা দাস তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সায়নীর এই বিস্ফোরক দাবি টলিপাড়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

মধ্যরাতে প্রাক্তন দম্পতির মাস্টারস্ট্রোক

সায়নী ঘোষের এই দাবির পালটা জবাব দিতে দীর্ঘ তিন বছর পর ফের এক ফ্রেমে ধরা দিলেন জীতু কমল ও নবনীতা দাস। বিচ্ছেদের পর এই প্রথম সোশ্যাল মিডিয়ায় একসঙ্গে লাইভে আসেন প্রাক্তন দম্পতি। লাইভে এসে সায়নীর দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যে বলে উড়িয়ে দেন তাঁরা। জীতু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনীতিকরা মিথ্যে বলতে বলতে এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছেন যেখানে মানুষ আর বিশ্বাস করছে না। অন্যদিকে নবনীতাও স্পষ্ট জানান, তিনি কখনও জীতুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নিয়ে সায়নীর দ্বারস্থ হননি।

লাইভের জন্য জীতু বেছে নিয়েছিলেন কেন্দুয়া শান্তিসংঘের পুজোমণ্ডপ, যার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার খোদ সায়নী ঘোষ। সায়নীর পুরোনো শিবলিঙ্গ বিতর্ক টেনে এনে জীতু তাঁর জনপ্রতিনিধি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং কোনো সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে লাইভে প্রাক্তন দম্পতির সহজ রসায়ন ও খুনসুটি নেটিজেনদের নজর কেড়েছে।

ডিভোর্স মানেই শত্রুতা নয়

এই ঘটনার মাধ্যমে টলিপাড়ার নোংরা রাজনৈতিক ট্রেন্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন জীতু কমল। তাঁর মতে, বিচ্ছেদ মানেই দুজনের মধ্যে বিষাক্ত সম্পর্ক থাকবে এমন নয়, বরং বিচ্ছেদের পরেও আজীবন ভালো বন্ধু থাকা সম্ভব।

বিশ্লেষকদের মতে, সায়নীর ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাব দিতে জীতু অত্যন্ত পরিকল্পিত ও কৌশলী পথ বেছে নিয়েছেন। প্রাক্তন স্ত্রীর প্রকাশ্য সমর্থন পাওয়ায় এই বিতর্কে জীতুর অবস্থান অনেকটাই মজবুত হলো। অন্যদিকে, এই ঘটনার ফলে টলিপাড়ার রাজনীতি ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *