জ্বালানি রফতানি শুল্কে বড় বদল আনল কেন্দ্র

চলতি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দেশের জ্বালানি রফতানি শুল্ক কাঠামোয় বড়সড় রদবদল করল কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেট্রল রফতানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করা হলেও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে ডিজেল ও বিমান জ্বালানির (অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল) রফতানি কর। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যেই সরকারের এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতি লিটার পেট্রল রফতানির ক্ষেত্রে শুল্ক তিন টাকা বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, স্বস্তি দিয়ে কমানো হয়েছে ডিজেল ও বিমান জ্বালানির রফতানি শুল্ক। আগে প্রতি লিটার ডিজেল রফতানিতে শুল্কের পরিমাণ ছিল ২৩ টাকা, যা সাড়ে ছয় টাকা কমিয়ে ১৬.৫ টাকা ধার্য করা হয়েছে। একইভাবে বিমানের জ্বালানির ওপর রফতানি শুল্ক লিটার প্রতি ৩৩ টাকা থেকে এক ধাক্কায় ১৭ টাকা কমিয়ে ১৬ টাকা করা হয়েছে। শনিবার থেকেই এই নতুন কর কাঠামো কার্যকর হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান এবং আমেরিকা-ইসরায়েল দ্বন্দ্বের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপকূলের সাম্প্রতিক উত্তেজনা বিশ্ব বাণিজ্যকে সংকটে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রলের মজুত নিশ্চিত করতে এবং অতিরিক্ত রফতানিতে লাগাম টানতেই পেট্রলের ওপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।
একই সঙ্গে ডিজেল ও বিমান জ্বালানির রফতানি শুল্ক কমানোর ফলে ভারতীয় তেল শোধনকারী সংস্থাগুলি বিশ্ববাজারে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাবে। বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল ও বাণিজ্যিক পরিবহণ স্বাভাবিক রাখতে এবং রফতানি আয় বজায় রাখতেই এই দুই ক্ষেত্রে কর ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডারের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।