দলবদলের চাপ ছাড়াই তৃণমূলের পুরবোর্ড সামলাচ্ছে বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে যোগ হয়েছে এক নতুন অধ্যায়। পুরসভা স্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর বা পুরপ্রধানদের আনুষ্ঠানিকভাবে দলে না টেনেও, পুর পরিষেবার রাশ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করেছে বিজেপি। লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনের ফলের পর রাজ্যের বেশ কিছু পুর এলাকায় তৈরি হওয়া প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণে এখন সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়করা। রাজনৈতিক মহলের মতে, সরাসরি দলবদলের পথে না হেঁটে পুর পরিষেবাকে সচল রাখাই এখন বিরোধী শিবিরের মূল কৌশল।
বিজেপির নির্দেশেই নড়াচড়া পুরসভায়
রাজ্যের একাধিক পুরসভায় এখন প্রকাশ্যেই দেখা যাচ্ছে এই নতুন সমন্বয়। বরাহনগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ সম্প্রতি তাঁর এলাকার দু’টি ওয়ার্ডে আবর্জনার স্তূপ দেখে ক্ষোভপ্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের দ্রুত সাফাইয়ের নির্দেশ দেন। লক্ষণীয়ভাবে, সেই নির্দেশ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করেন তৃণমূলের কাউন্সিলররা। শুধু বরাহনগর নয়, বনগাঁ পুরসভাতেও একই ছবি ধরা পড়েছে। সেখান থেকে জয়ী বিজেপি বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল স্বয়ং পুরপ্রধানের সঙ্গে দেখা করে পুর পরিষেবা মসৃণ রাখার আশ্বাস দিয়েছেন এবং যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।
প্রশাসনিক দোলাচল ও সমন্বয়ের রাজনীতি
ভোটের ফলাফলের পর অনেক পুরপ্রধান ও কাউন্সিলর যখন এক প্রকার নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলেন, তখন প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটাতে বিজেপি বিধায়করাই উদ্যোগী ভূমিকা নিচ্ছেন। দক্ষিণ দমদম পুরসভার চেয়ারপার্সন কস্তুরী চৌধুরী ভোটের পর পুরসভায় যাওয়া বন্ধ করে দিলে, বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি নিজে উদ্যোগী হয়ে তাঁকে পুরসভায় ফিরিয়ে আনেন। এরপর দমদম, বিধাননগর এবং রাজারহাট গোপালপুরের তিন বিজেপি বিধায়ক একসঙ্গে বৈঠক করেন পুরপ্রধানের সঙ্গে। আপাতত এই সমন্বয় মেনেই পুর প্রশাসন সচল রাখার চেষ্টা চলছে।
এই নতুন সমীকরণের ফলে পুর এলাকায় দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যাগুলো দ্রুত মিটছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক। তবে এর দূরগামী রাজনৈতিক প্রভাবও রয়েছে। তৃণমূলের বোর্ড বহাল রেখেই যদি বিজেপি বিধায়করা কাজ আদায় করে নিতে পারেন, তবে তা আগামী দিনে পুরসভাগুলোর ওপর ঘাসফুল শিবিরের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণকে অনেকটাই দুর্বল করে দেবে। অন্যদিকে, তৃণমূল কাউন্সিলররাও নিজেদের টিকিট ও এলাকা ধরে রাখতে এই নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন।