জ্যামমুক্ত কলকাতা গড়ার লক্ষ্যে এবার জোর কদমে নামছে কেএমডিএ

কলকাতার ট্রাফিক জ্যামের চিরচেনা ছবি বদলে দিতে ফের সক্রিয় হচ্ছে প্রশাসন। সরকার পরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন ধরে ফাইলে বন্দি থাকা শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মেগা পরিকাঠামো প্রকল্প নিয়ে নতুন করে নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (KMDA)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই নগরোন্নয়ন দফতরের দায়িত্বে থাকায় এই প্রকল্পগুলি দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ইতিমধ্যেই নতুন দফতরের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছেন কেএমডিএ-র উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

বাইপাস থেকে রুবি, বদলে যাবে যাতায়াতের চেনা ছবি

মেগা প্রকল্পগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল পরিকল্পনাটি হলো ইএম বাইপাস থেকে সল্টলেক সেক্টর ৫ ও নিউ টাউন সংযোগকারী একটি দীর্ঘ উড়ালপুল নির্মাণ। প্রায় ৯০০ কোটি টাকা বাজেটের এই প্রকল্পে মেট্রোপলিটন মোড় থেকে মহিষবাথান পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের উড়ালসেতু তৈরির কথা রয়েছে। চিংড়িঘাটার যানজট এড়িয়ে সেক্টর ৫-এর রিং রোড ও নলবানের ওপর দিয়ে যাওয়ার কারণে এই সেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ মন্ত্রকের অনুমোদন ও দরপত্র ডাকার কাজ আগেই হয়েছিল, কিন্তু মূলত আর্থিক অনটনের কারণে লার্সেন অ্যান্ড টুব্রোর মতো সংস্থা যুক্ত থাকার পরও কাজ থমকে যায়।

একইভাবে থমকে থাকা রুবি মোড়ের স্কাইওয়াক প্রকল্পটি ফের আলোচনার টেবিলে এসেছে। প্রায় ৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এই বৃত্তাকার স্কাইওয়াকটি তৈরি হলে পথচারী ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায় মেট্রো স্টেশনের যাত্রীরা রাস্তা না পেরিয়েই মোড়ের বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপদে পৌঁছতে পারবেন। আনন্দপুর ও গড়িয়াহাটমুখী অংশ সহ মোট চারটি র‍্যাম্পের এই নকশা ২০২১ সালেই চূড়ান্ত হয়েছিল, যা এখন আলোর মুখ দেখতে পারে। অন্যদিকে, যাদবপুরের জীবনানন্দ সেতুর তীব্র যানজট কমাতে ২০১৯ সালে প্রস্তাবিত ৬০০ মিটারের একটি সমান্তরাল সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে।

গতি আসবে থমকে থাকা প্রকল্পে, কমবে জনভোগান্তি

পরিকাঠামো বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রকল্পগুলি থমকে থাকার প্রধান কারণ ছিল যথাযথ সমন্বয় ও তহবিলের অভাব। নতুন সরকার আসার পর প্রশাসনিক স্তরে ফাইল খোলার তৎপরতা বাড়ায় অর্থ বরাদ্দের জট কাটার উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই তিনটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পূর্ব ও দক্ষিণ কলকাতার একটি বিস্তীর্ণ অংশে প্রতিদিনের যানজট এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে। ফলে আইটি কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ নিত্যযাত্রীদের সময় বাঁচবে এবং শহরের অর্থনৈতিক গতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *