সন্তান হলেই মিলছে হাজার হাজার টাকা, জানুন কেন্দ্রের এই বিশেষ স্কিমের খুঁটিনাটি

গর্ভবতী ও প্রসূতি মহিলাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং আর্থিক সহায়তায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে এবং গর্ভাবস্থায় পুষ্টির অভাব দূর করতে চালু রয়েছে ‘প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা’। এই প্রকল্পের আওতায় প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর মায়েদের সরাসরি আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক হয়ে উঠেছে।
সাধারণত গর্ভাবস্থায় অনেক কর্মজীবী মহিলাই শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজ করতে পারেন না। ফলে পরিবারে আয় কমে যায় বা উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। সেই সংকটের কথা মাথায় রেখেই কেন্দ্রীয় সরকার এই আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করেছে। ডিরেক্ট বেনেফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি (DBT) ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তার আধার লিঙ্কযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অথবা পোস্ট অফিসের অ্যাকাউন্টে এই টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
সন্তান ভেদে আর্থিক সহায়তার অঙ্ক
এই যোজনার নিয়মানুযায়ী, কোনো দম্পতির প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে মোট ৫,০০০ টাকা দেওয়া হয়। এই অর্থ পাওয়া যায় দুটি কিস্তিতে। প্রথম দফায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গর্ভাবস্থার নাম নথিভুক্ত করার সময় ৩,০০০ টাকা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সন্তানের জন্ম এবং তার প্রথম দফার টিকাকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বাকি ২,০০০ টাকা মায়ের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়।
অন্যদিকে, কোনো পরিবারের দ্বিতীয় সন্তানটি যদি কন্যাসন্তান হয়, তবে সরকারের তরফ থেকে এককালীন ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এই পদক্ষেপ মূলত কন্যাসন্তানের জন্মহার বৃদ্ধি এবং তাদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে।
আবেদনের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথি
এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারী মহিলার বয়স ন্যূনতম ১৯ বছর হতে হবে। তবে শর্তানুযায়ী, আবেদনকারী যদি কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারি কর্মী হন, কিংবা কোনো সরকারি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় কর্মরত থাকেন, তবে তিনি এই সুবিধা পাবেন না। সাধারণ কর্মরত মহিলা, যাঁদের গর্ভাবস্থার কারণে আয় বন্ধ বা হ্রাস পেয়েছে, তাঁরাই এর মূল অংশীদার।
আবেদনের জন্য আবেদনকারী মায়ের আধার কার্ড, মা ও শিশু সুরক্ষা কার্ড এবং ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের পাসবই থাকা বাধ্যতামূলক। যোগ্য মহিলারা নিকটবর্তী অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বা সরকারি স্বীকৃত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে অফলাইনে আবেদন করতে পারেন। এছাড়া ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পিএমএমভিআই (PMMVY) পোর্টালে গিয়েও এই যোজনার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব।