NEET পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের মাস্টারমাইন্ড অবশেষে সিবিআই জালে

২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার নেপথ্যে থাকা মূল চক্রীকে গ্রেফতার করল সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা সিবিআই। মহারাষ্ট্রের পুণে থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে পিভি কুলকার্নি নামের এক রসায়নের অধ্যাপককে। সিবিআই তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই শিক্ষকই প্রথম নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছিলেন। ‘সিক্রেট টিউশন সেশন’ বা বিশেষ গোপন ক্লাসের আড়ালে মোটা টাকার বিনিময়ে একাধিক পড়ুয়ার কাছে পরীক্ষার আগেই পৌঁছে গিয়েছিল প্রশ্ন ও উত্তর।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত পিভি কুলকার্নি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র পরীক্ষা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ বছর ধরে নিটের প্রশ্নপত্র তৈরির প্যানেলে সদস্য থাকার সুবাদে প্রশ্নপত্র কী হতে চলেছে, তা তাঁর আগে থেকেই জানা ছিল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া নিট ইউজি পরীক্ষার আগেই, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দেন। এই চক্রে তাঁকে সহায়তার অভিযোগে মনীষা বাঘমারে নামে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। এই নিয়ে নিট কাণ্ডে মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করা হলো।

যেভাবে চলত প্রশ্ন ফাঁসের কারবার

সিবিআই-এর তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন এই অধ্যাপক। কোনো লিখিত বা ডিজিটাল নথি না রেখে, তিনি বিশেষ কোচিং ক্লাসে মুখে মুখে প্রশ্ন এবং মাল্টিপল চয়েস অপশনগুলো বলে দিতেন। একই সঙ্গে তিনি সঠিক উত্তরও শিক্ষার্থীদের মুখস্থ করিয়ে দিতেন। পরীক্ষার্থীরা সেই সমস্ত প্রশ্ন ও উত্তর খাতায় নোট করে নিত। পরীক্ষায় বসে হুবহু সেই প্রশ্ন মেলায় বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এই অনৈতিক সুবিধা পেয়ে যায় বেশ কিছু পরীক্ষার্থী।

ঘটনার প্রভাব ও ভবিষ্যৎ

দেশজুড়ে অন্যতম কঠিন এবং মর্যাদাপূর্ণ এই চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় এনটিএ-র নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। লক্ষ লক্ষ যোগ্য ও পরিশ্রমী পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার সম্মুখীন। এই ঘটনার জেরে পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা যেমন ধাক্কা খেয়েছে, তেমনই আগামী দিনে এনটিএ-র প্রশ্ন নির্বাচন ও পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন ও কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *