শুভেন্দুর কড়া হুঁশিয়ারির মাঝেই গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে প্রকাশ্য দিবালোকে খুনের চেষ্টা, আঙুল বাদ যাওয়ার আশঙ্কা
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতার গড়িয়া এলাকা। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে যখন মুখ্যমন্ত্রী কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিচ্ছেন, ঠিক তখনই গড়িয়ায় এক বিজেপি কর্মীকে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাহত করে খুনের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন ওই বিজেপি কর্মী এবং অভিযোগের তির সরাসরি স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রকাশ্য দিবালোকে রক্তাক্ত গড়িয়া
শনিবার দুপুরে গড়িয়ার ভ্যালিপার্ক এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত বিজেপি কর্মী এবং অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী দুজনেই ওই এলাকার বাসিন্দা। দুপুরে আচমকাই দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। বচসা চলাকালীন অভিযুক্ত যুবক হঠাৎ একটি ধারালো ছুরি বের করে ওই বিজেপি কর্মীর ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। আত্মরক্ষা করতে গেলে ধারালো ছুরির আঘাতে আক্রান্ত যুবকের হাত মারাত্মকভাবে জখম হয়। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, ছুরির আঘাতে ওই বিজেপি কর্মীর হাতের চারটি আঙুল বাদ চলে যেতে পারে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা চিৎকার শুনে ছুটে আসেন এবং তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে রাজ্যে এবার ‘আইনের শাসন’ চলবে এবং পুলিশ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ রাজনীতি মুক্ত করা হবে। এমনকি দলদাস হিসেবে কাজ না করে পুলিশকে স্বাধীনভাবে অপরাধ দমনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এই কড়া হুঁশিয়ারির মধ্যেই গড়িয়ার এই ঘটনা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলার কড়াকড়িকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল।
প্রাথমিকভাবে একে স্থানীয় বিবাদ বলা হলেও, আক্রান্ত এবং অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ঘটনার পিছনে গভীর রাজনৈতিক অভিসন্ধি বা ভোট পরবর্তী হিংসার যোগ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনার জেরে এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর পেয়েই বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।