ভোট মিটলেই জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

ফলতায় নির্বাচনী জনসভা থেকে ‘ভাইপো’ এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা পুনর্নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে ফলতার জাহাঙ্গির খানকে ‘কুখ্যাত অপরাধী’ আখ্যা দিয়ে ভোট মিটলেই তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের নাম না করে তাঁদের বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান তুলে ধরেছেন এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়েছেন।

বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে আয়োজিত এই সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী জানান, ফলতার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। সেই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে এবার ফলতার জন্য একটি ‘স্পেশ্যাল ডেভেলপমেন্ট প্যাকেজ’ বা বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে। ২১ মে-র পুনর্নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীকে অন্তত এক লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জয়ী করার জন্য তিনি ভোটারদের আহ্বান জানান।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পুলিশকে কড়া নির্দেশ

রাজ্যের শাসনভার গ্রহণের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। ফলতার সভা থেকে তিনি সাফ জানান, এলাকায় কোনও গুন্ডামি বরদাস্ত করা হবে না। সাধারণ নির্বাচনের সময় সাধারণ মানুষের ওপর হওয়া সমস্ত অত্যাচারের হিসাব নেওয়া হবে। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, বিগত দিনে হওয়া সমস্ত অত্যাচারের ঘটনার তদন্তে কল রেকর্ডস এবং হোয়াট্‌সঅ্যাপ চ্যাট খতিয়ে দেখতে হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগে আজ থেকেই ‘পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড’ ভেঙে দেওয়ার বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজনৈতিক মহলে দলবদলের জল্পনা

শুভেন্দু অধিকারীর এই ডায়মন্ড হারবার সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। একদিকে নিউ টাউনে অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর আশীর্বাদ নেন মুখ্যমন্ত্রী, অন্যদিকে ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠক চলাকালীন তৃণমূল বিধায়ক পান্নালাল হালদার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে জেলা প্রশাসনিক দফতরে হাজির হন। তৃণমূল বিধায়কের এই সাক্ষাৎপ্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে দলবদলের জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষস্তরে কড়া বার্তা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আগামী দিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা তথা সমগ্র রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *