রাজনৈতিক তাঁবেদারি মুক্ত পুলিশ চান শুভেন্দু অধিকারী! ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠকে এল ‘ফ্রি-হ্যান্ড’ বার্তা

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক সংস্কার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ডায়মন্ড হারবারে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক থেকে তিনি নিচুতলার পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশে অত্যন্ত কড়া ও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে আর কোনও রাজনৈতিক দল বা নেতার তাঁবেদারি করার প্রয়োজন নেই। পুলিশকে আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে কাজ করার জন্য পূর্ণ স্বাধীনতা বা ‘ফ্রি-হ্যান্ড’ দিয়েছেন তিনি। এই বৈঠক থেকেই ‘পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড’ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়ার বড়সড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক চাপমুক্ত নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়ার ডাক

পূর্বতন সরকার এবং ডায়মন্ড হারবারের বিদায়ী সাংসদকে তীব্র ভাষায় নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিগত বছরগুলিতে রাজনৈতিক চাপে পড়ে পুলিশকে দলদাসের মতো কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল, যার সমস্ত প্রমাণ বর্তমান সরকারের কাছে রয়েছে। এই ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে তিনি পুলিশকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে আইন শেখানোর আগে পুলিশ প্রশাসনকে নিজেদের আত্মশুদ্ধির পাঠ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশের গাড়ির ফিটনেস, দূষণের শংসাপত্র ও চালকের লাইসেন্স নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, নিজেরা ঠিক হলে তবেই সমাজ ঠিক হবে।

নারী সুরক্ষা ও কড়া আইনশৃঙ্খলার নতুন রূপরেখা

প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে এবং জননিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করেছেন। মহিলাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে রাজ্যের প্রতিটি থানায় বাধ্যতামূলকভাবে ‘মহিলা ডেস্ক’ এবং দ্রুত আইনি সহায়তার জন্য ‘ই-অফিস’ ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, রাজ্যে কথায় কথায় রাস্তা অবরোধ বা যখন-তখন বিক্ষোভ প্রদর্শন রুখতে এবার থেকে যে কোনও ধরনের প্রতিবাদ বা অবস্থানের জন্য পুলিশের আগাম লিখিত অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে অভিযুক্তদের বাড়ির জিনিসপত্র ক্রোক করে তা বিক্রির মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ উসুল করবে সরকার। পাশাপাশি, শহরের বেআইনি নির্মাণ রুখতে পুলিশ ও পুরসভাকে যৌথভাবে কাজ করার এবং একশো দিনের কাজ-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা তোলা অপরাধীদের দ্রুত খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেলডাঙা ও আসানসোল-সহ রাজ্যের স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে পুলিশ প্রশাসনকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কর্তব্য পালনে কোনও রকম শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *