‘অভিশাপ’ কবিতা বিতর্কে কৃষ্ণনগর আদালতে কবি শ্রীজাত, মিলল শর্তসাপেক্ষ জামিন
২০১৭ সালের একটি পুরনো কবিতাকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতায় জড়ানো কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় অবশেষে স্বস্তি পেলেন। শনিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানান তিনি। উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে আদালত তাঁকে শর্তসাপেক্ষ জামিন মঞ্জুর করেছে। নির্বাচনী আবহের মধ্যে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া এবং পরবর্তীতে জামিনের ঘটনাটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ ও আইনি জটিলতা
এই বিতর্কের সূত্রপাত ২০১৯ সালে, যখন আইনজীবী রোমিত শীল শ্রীজাতর বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের মূল ভিত্তি ছিল ২০১৭ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা শ্রীজাতর ‘অভিশাপ’ নামক একটি কবিতা। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যোগী আদিত্যনাথের শপথ গ্রহণের পর কবিতাটি প্রকাশ করেছিলেন কবি। মামলাকারীর দাবি, কবিতার একটি নির্দিষ্ট অংশে বিশেষ করে শিবলিঙ্গ সংক্রান্ত লাইনে হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। এই মামলার শুনানিতে বারবার সমন পাঠানো সত্ত্বেও কবি আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ২০ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
জামিনের শর্ত ও সম্ভাব্য প্রভাব
শনিবার আদালতে শ্রীজাতর আইনজীবী জামিনের পক্ষে সওয়াল করলেও মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী এর তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, বারবার সমন এড়িয়ে যাওয়ায় কবির জামিন পাওয়া উচিত নয়। তবে আদালত সমস্ত দিক বিবেচনা করে ২০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে কবির জামিন মঞ্জুর করে। একই সঙ্গে আদালত কিছু কড়া শর্ত আরোপ করেছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো আদালতের অনুমতি ছাড়া আপাতত কৃষ্ণনগর ও কলকাতার বাইরে যেতে পারবেন না শ্রীজাত।
ভোটের মুখে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই নেটমাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার তত্ত্ব নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। এই জামিনের ফলে সাময়িকভাবে আইনি উত্তেজনা প্রশমিত হলেও, সৃজনশীল স্বাধীনতা বনাম ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষায় আইনি সীমানা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও সামাজিক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলো।