চলতি দশক বিশ্বের জন্য দুর্যোগের, নেদারল্যান্ডসের মাটি থেকে হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা ও টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝে এক বড়সড় আশঙ্কা প্রকাশ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাঁচ দেশ সফরের অংশ হিসেবে শনিবার নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে পৌঁছে প্রবাসী ভারতীয়দের মুখোমুখি হন তিনি। শান্তির শহর হিসেবে পরিচিত হেগ-এর মাটি থেকেই বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান দশকটি সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি ‘দুর্যোগের দশক’ হিসেবে রূপ নিয়েছে। যদি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে আগামী দিনে বিশ্বকে এর জন্য চরম মূল্য দিতে হতে পারে।

একই সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে ১৬ মে দিনটিকে ভারতের জন্য অত্যন্ত বিশেষ দিন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, ঠিক ১২ বছর আগে ২০১৪ সালের এই দিনটিতেই লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছিল, যা দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

বদলে যাওয়া ভারতের জয়গাথা ও বিশ্বমঞ্চে অগ্রগতি

প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদী বর্তমান ভারতের আধুনিকায়ন ও বৈশ্বিক উত্থানের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আজকের ভারত শুধু বড় স্বপ্নই দেখে না, তা বাস্তবায়নও করতে জানে। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ভারতের সফল অবতরণের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে তিনি জানান, মহাকাশ গবেষণায় ভারত এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে যেখানে বিশ্বের অন্য কোনো দেশ পৌঁছাতে পারেনি।

প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ইউপিআই (UPI) লেনদেনের মাধ্যমে ডিজিটাল অর্থনীতিতে ভারত বিশ্বে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। পাশাপাশি স্টার্টআপ সংস্কৃতির জোয়ারে দেশে বর্তমানে দুই লক্ষেরও বেশি স্টার্টআপ সক্রিয় রয়েছে। বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ভারত এখন চিপ উৎপাদন ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে দেশটিতে ১২টি সেমিকন্ডাক্টর কারখানার কাজ চলছে, যার মধ্যে দুটি ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে দিয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বের বৃহত্তম সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্পও সফলভাবে পরিচালনা করছে ভারত।

সংস্কৃতির মেলবন্ধন ও ভবিষ্যতের প্রভাব

বিশ্বমঞ্চে ভারতের এই আধুনিক রূপান্তরের নেপথ্যে প্রযুক্তির অবদান যেমন রয়েছে, তেমনই দেশের প্রাচীন মূল্যবোধের গুরুত্বও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই বদলে গিয়েছে, কিন্তু ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রোথিত রয়েছে। ভারতীয়দের আপন করে নেওয়ার চিরন্তন ক্ষমতা আজও অক্ষুণ্ণ।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেদারল্যান্ডসের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা বিশ্বজুড়ে ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত শক্তির জানান দেয়। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সংকট নিয়ে তাঁর এই সতর্কতা আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভারতের দূরদর্শী কূটনৈতিক অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ। বক্তব্যের শেষে দুই দেশের সংস্কৃতির একটি সুন্দর তুলনা টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নেদারল্যান্ডস যেমন বিশ্বজুড়ে টিউলিপ ফুলের জন্য পরিচিত, ভারতও ঠিক তেমনই পদ্মফুলের জন্য বিখ্যাত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *