বনগাঁয় রাজনীতি উত্তপ্ত, তৃণমূল জেলা সভাপতিকে ‘গুন্ডা’ বলে নিশানা মন্ত্রীর

বনগাঁয় পা রেখেই তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজ্যের নতুন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। শনিবার নিজের নির্বাচনী এলাকা গোপালনগরের একটি কর্মী সংবর্ধনা সভায় যোগ দিয়ে বিশ্বজিৎ দাসকে সরাসরি ‘গুন্ডা’ বলে সম্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর সমস্ত ‘কুকর্মে’র হিসাব নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মন্ত্রী। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভোটের পরেও বনগাঁর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
পুরনো বিরোধ ও মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার এই চরম ক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে একটি পুরনো পারিবারিক ও রাজনৈতিক সংঘাত। বিধানসভা নির্বাচনের আগে গোপালনগরের বেলেডাঙ্গা এলাকায় একটি অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে ফেরার পথে মন্ত্রীর স্ত্রীর গাড়ির ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে অশোক কীর্তনিয়া এদিন বলেন, তাঁর স্ত্রী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও তাঁকে অসম্মানিত করা হয়েছে। এই ঘটনার জন্য বিশ্বজিৎ দাসকে দায়ী করে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বিশ্বজিৎ দাস যে কাজ করেছেন, তার ফল তাঁকে ভোগ করতে হবে এবং এর জন্য উপযুক্ত হিসাব নেওয়া হবে।
পাল্টা আক্রমণে বিশ্বজিৎ দাস
মন্ত্রীর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের জবাবে পাল্টা আক্রমণ শানাতে ছাড়েননি তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ দাসও। অশোক কীর্তনিয়াকে রাজনৈতিকভাবে অপরিপক্ব দাবি করে তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, নতুন মন্ত্রীর এখনও অন্নপ্রাশন হয়নি, আগে তিনি হাঁটতে শিখুন। নিজের রাজনৈতিক সততার দাবি করে বিশ্বজিৎবাবু জানান, তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, কিন্তু কেউ কখনও তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলতে পারেনি। মন্ত্রীর স্ত্রীর ওপর হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, ওই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই, বরং অশোক কীর্তনিয়ার নিজের দলের লোকেরাই এই ঘটনার জন্য দায়ী।
রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর নতুন সরকার গঠিত হলেও বনগাঁ অঞ্চলের স্থানীয় দলীয় কোন্দল ও ব্যক্তিগত শত্রুতা এখনও মেটেনি। একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মুখে প্রকাশ্য সভায় জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে ‘গুন্ডা’ শব্দ ব্যবহার এবং পাল্টা ‘অন্নপ্রাশন হয়নি’র মতো কটাক্ষের জেরে আগামী দিনে এই দুই নেতার অনুগামীদের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়তে পারে। এই অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কেমন প্রভাব পড়ে, এখন সেটাই দেখার।