অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তাহীনতায় স্বপ্না বর্মণ, রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থীর রহস্যময় নীরবতা!
জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ বিধানসভা আসনের তৃণমূল প্রার্থী তথা এশিয়াডে সোনা জয়ী অ্যাথলেট স্বপ্না বর্মণের বাড়িতে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার রাতের এই ঘটনার পর থেকেই পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন স্বপ্না। এই পরিস্থিতিতে তিনি পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সরাসরি রাজ্য সরকারের কাছে নিরাপত্তার আবেদন জানিয়েছেন। তবে এই গোটা ঘটনায় নিজের রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ভূমিকা বা সমর্থন নিয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছেন তিনি, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার জলপাইগুড়ির কোতোয়ালি থানায় হাজির হয়ে স্বপ্না বর্মণ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, জলপাইগুড়ির পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোষ পাড়ায় স্বপ্নার দুটি বাড়ি রয়েছে। যার মধ্যে একটিতে তিনি সপরিবারে থাকেন এবং অন্যটি ফাঁকা পড়ে থাকে। শুক্রবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ তাঁর ওই ফাঁকা বাড়িটিতেই আগুন লাগার খবর আসে। সেই সময় বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় আগুন চারদিকে ছড়াতে পারেনি। খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফাঁকা ঘরের ভেতরে কিছু জ্বালানি কাঠ ও কাগজপত্র মজুত ছিল, যেগুলিতে আগুন লেগেছিল।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও প্রতিবেশীদের ক্ষোভ
এই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ প্রশাসন এখন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিচ্ছে। তবে ঘটনাটি ভিন্ন মোড় নিয়েছে যখন পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোষ পাড়ার বাসিন্দারা স্বপ্নার পরিবারের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। কোতোয়ালি থানায় এসে প্রতিবেশীদের একাংশ এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে স্বপ্নার পরিবারের দিকেই সন্দেহের আঙুল তুলেছেন, যা এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
নির্বাচনে পরাজয়ের পর নিজের দলের কোনো স্তরের নেতাকর্মীদের পাশে না পেয়ে স্বপ্নার এই নীরবতা স্থানীয় রাজনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অগ্নিকাণ্ড বা স্বপ্নার নিরাপত্তা দাবি নিয়ে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, বিরোধী দল বিজেপি এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। বিজেপির নেতৃত্বের দাবি, পুলিশ যদি সঠিক ও নিরপেক্ষভাবে ঘটনার তদন্ত করে, তবে স্বপ্না বর্মণের বাড়িতে আগুন লাগার পেছনের আসল সত্য এবং রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য খুব দ্রুতই প্রকাশ্যে আসবে।