মে মাসেই আন্দামানে আগাম বর্ষার ধামাকা, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে একযোগে দুর্যোগের পূর্বাভাস
ভারতের মূল ভূখণ্ডে নির্ধারিত সময়ের আগেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা প্রবেশের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রইল। মৌসম ভবনের আবহাওয়ার বড় আপডেট অনুযায়ী, মে মাসের মাঝামাঝেই আন্দামানে পা রেখেছে বর্ষা। ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং আন্দামান সাগরের সিংহভাগ এলাকা বর্ষার কব্জায় চলে এসেছে। আন্দামানের শ্রী বিজয়পুরমে আনুষ্ঠানিক প্রবেশের পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরের কিছু অংশ, দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরেও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর আগে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালেও মে মাসেই কেরলে আগাম বর্ষা প্রবেশ করেছিল, যা এবারও সময়ের আগেই ভারতের মূল ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে আসছে।
উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা ও জেলাভিত্তিক দুর্যোগ
মৌসুমি বায়ুর এই আগাম সক্রিয়তার প্রভাবে উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া চরম রূপ নিতে চলেছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার থেকেই দার্জিলিং থেকে মালদা পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের আটটি জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির দাপট বাড়বে। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যেখানে কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত ছুঁতে পারে। এ ছাড়া দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহারে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবারও এই জেলাগুলোতে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকবে এবং ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে। বুধবার উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে আবারও বৃষ্টির দাপট বাড়লেও বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর দাপট ও কলকাতার অস্বস্তিকর আবহাওয়া
উত্তরবঙ্গের তুলনায় দক্ষিণবঙ্গের চিত্রটা কিছুটা আলাদা। এখানে এখনই ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা না থাকলেও, স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়া বজ্রগর্ভ মেঘের কারণে রবিবার পুরুলিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, উত্তর ২৪ পরগণা এবং নদিয়া জেলায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া ও মাঝারি বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে এবং বিকেল বা রাতের দিকে সামান্য ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রবিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৭ ডিগ্রি বেড়ে ২৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৬৬ থেকে ৯৩ শতাংশের মধ্যে থাকায় বৃষ্টির পরেও তীব্র গরম ও ভ্যাপসা অস্বস্তি বজায় থাকবে। আগামী বৃহস্পতিবারের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টি কমে গরম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।