মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী, উপনির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে হাইপ্রোফাইল রুদ্ধদ্বার বৈঠক
মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর শনিবার প্রথমবার নন্দীগ্রামে পা রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী। হাইপ্রোফাইল এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও জনজোয়ার দেখা যায়। নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় নিজের বিধায়ক কার্যালয়ে পৌঁছেই তিনি দলীয় সাংসদ, বিধায়ক এবং শীর্ষ নেতাদের নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি, তমলুক, নন্দকুমারসহ বিভিন্ন কেন্দ্রের দলীয় বিধায়করা এই বৈঠকে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীও।
উপনির্বাচনের প্রার্থী ও রণকৌশল নির্ধারণ
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই কেন্দ্র থেকেই বিজয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সাংবিধানিক নিয়ম মেনে তিনি নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদটি ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে এই আসনে আসন্ন উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী কে হবেন এবং দলের রণকৌশল কী হবে, তা নির্ধারণ করতেই এই জরুরি বৈঠকের আয়োজন। আসনটি ধরে রাখা শাসক শিবিরের জন্য অত্যন্ত মর্যাদার লড়াই। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনো দলের পক্ষ থেকেই প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
নন্দীগ্রামের উন্নয়নে অনড় মুখ্যমন্ত্রী
বিধায়ক পদ ছাড়লেও নন্দীগ্রামের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানান, অতীতে যখন তিনি সেখানকার বিধায়ক ছিলেন না, তখনও দায়িত্ব পালন করেছেন। উপনির্বাচনে দলের যে প্রার্থীই দাঁড়ান না কেন, নন্দীগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়ন ও ভালো-মন্দের মূল দায়িত্ব যে তিনিই সামলাবেন, সেই আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া বার্তা
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এদিনই প্রথম জেলা সফরে বের হন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের আগে তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগণার ডায়মন্ড হারবারে যান এবং রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। সেখান থেকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করতে কড়া বার্তা দেন তিনি। অপরাধীদের দমনে পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, পুলিশ মার খাচ্ছে এমন ঘটনা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। পাশাপাশি গবাদি পশু পাচারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।