অভিষেকের পর রাজীব, শোভন ও কুণালদের নিরাপত্তায় বড় কাটছাঁট, হাউস গার্ড সরাল লালবাজার
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় রদবদল শুরু করল নতুন সরকার। তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা কমানোর পর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন রাজীব কুমার, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষের মতো হেভিওয়েট নামগুলো। লালবাজার সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে প্রাক্তন আইপিএস তথা তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার ছাড়াও দলের ১০ জন প্রভাবশালী নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়ির ‘হাউস গার্ড’ সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হয়েছে।
ভিআইপি সংস্কৃতিতে লাগাম টানার চেষ্টা
তৃণমূল জমানায় বহু নেতা, মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তা পেতেন বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল। নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর সেই ভিআইপি সংস্কৃতিতেই মূলত কোপ মারা হল। লালবাজারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী একজন সাংসদ বা বিধায়ক যতটুকু নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারী, ঠিক ততটুকুই তাঁদের দেওয়া হবে। অতিরিক্ত কোনো সুযোগ-সুবিধা বা বাড়ির সামনে চব্বিশ ঘণ্টার পুলিশি প্রহরা আর বহাল রাখা হবে না।
পদমর্যাদা অনুযায়ী পুনর্বিন্যাস ও প্রভাব
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও সুব্রত বক্সীর নিরাপত্তা বলয় সংকুচিত হয়েছে। এদের মধ্যে অরূপ বিশ্বাস সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বর্তমানে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। অন্যদিকে, কুণাল ঘোষ বিধায়ক এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাংসদ হিসেবে যতটুকু আইনি নিরাপত্তা পাওয়ার যোগ্য, কেবল সেটুকুই পাবেন। এমনকি ডিরেক্টর অব সিকিউরিটি তথা প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি পীযূষ পাণ্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ঢেলে সাজানো হয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন পুলিশের ওপর থেকে বাড়তি ভিআইপি ডিউটির চাপ কমবে, তেমনই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশকে আরও বেশি ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।