কাটোয়ায় আড্ডার আসরে কলেজ ছাত্রকে এলোপাথাড়ি কোপ, নেপথ্যে গেমের বিবাদ নাকি ত্রিকোণ প্রেম?
পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার মূলটি গ্রামে শনিবার রাতে এক কলেজ ছাত্রকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুন করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মৃত তরুণের নাম শাহিদ মিদ্দা (২১)। তিনি কাটোয়া কলেজের বিএ তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া ছিলেন। প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও বন্ধুদের সঙ্গে স্থানীয় একটি দিঘির পাড়ে আড্ডা দিতে গিয়েছিলেন শাহিদ। সেখানেই রাত সাড়ে নয়টা থেকে দশটার মধ্যে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ। শাহিদের গলা ও মুখে মারাত্মক আঘাত লাগায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ রক্তসংকর দেহটি উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। রবিবার সকালে ঘটনার তদন্তে নেমেছে ফরেনসিক দল।
খুনের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
মেধাবী এই ছাত্রের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। খুনের প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা থাকলেও পুলিশ ও পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শাহিদের পরিবারের দাবি, বন্ধুদের সঙ্গে বসে মোবাইল গেম খেলা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে একটি বিবাদ চলছিল। দিন সাতেক আগে শাহিদকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর কাকা রমজান মিদ্দা। গেম খেলার সেই শত্রুতার জেরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান পরিবারের।
তদন্তে পুলিশ, আটক দুই বন্ধু
ঘটনার সময় দিঘির পাড়ে শাহিদের সঙ্গে লালন মল্লিক ও সাহেব বাগদি নামে তাঁর দুই বন্ধু উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই দুই বন্ধুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। জানা গেছে, ঘটনাস্থলে আরও একজন উপস্থিত ছিলেন, যিনি ঘটনার পর থেকেই পলাতক। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। গেম খেলার বিবাদের পাশাপাশি এই ঘটনার পেছনে কোনো গভীর প্রেমঘটিত বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা রয়েছে কি না, তাও সমান গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে সমস্ত দিক বিবেচনা করে দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।