নবান্নে ৩৯ হাজার কোটির মেগা চুক্তি, জল জীবন মিশন নিয়ে এবার বড় পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
সোমবার নবান্নে এক হাইভোল্টেজ বৈঠকে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে ঐতিহাসিক মৌ (MoU) স্বাক্ষর করল রাজ্য সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প ‘জল জীবন মিশন’ সফলভাবে রূপায়ণের লক্ষ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই মেগা প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের জন্য ৩৯ হাজার কোটি টাকার নতুন চুক্তি সই হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য বাংলার ঘরে ঘরে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া। একই দিনে সেচ দফতর এবং ডিভিসি (DVC)-র আধিকারিকদের সঙ্গে বর্ষার আগের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকও করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তায় জোর ও পূর্বতন সরকারের সমালোচনা
চুক্তি স্বাক্ষরের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়ে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, আগের তৃণমূল সরকারের জমানায় এই প্রকল্পের জন্য ২৯ হাজার কোটি টাকা এলেও বাস্তব ক্ষেত্রে কোনো কাজ হয়নি, বরং টাকার অপব্যবহার হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম বদলে ‘জল স্বপ্ন’ করারও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি এবং স্পষ্ট জানান যে, বর্তমান বিজেপি সরকার সম্পূর্ণ স্বচ্ছ পদ্ধতিতে জনতার জন্য কাজ করবে। রাজ্যের বর্তমান বেহাল আর্থিক দশার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়া এই মুহূর্তে রাজ্যের পক্ষে একা এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
উন্নয়নের নতুন দিশা ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, নবান্নে বসে কেন্দ্রের সঙ্গে এই মেগা চুক্তি স্বাক্ষর রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে এক নতুন যুগের সূচনা করল। তীব্র আর্থিক সংকটে থাকা পশ্চিমবঙ্গের জন্য এই বিপুল অঙ্কের কেন্দ্রীয় অনুদান অত্যন্ত বড় একটি স্বস্তি। ৩৯ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ ও নগর জীবনের এক বিস্তীর্ণ অংশে পানীয় জলের দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। পাশাপাশি, সেচ সংক্রান্ত আরও নতুন প্রজেক্ট দিল্লির কাছে পাঠানোর যে পরিকল্পনা মুখ্যমন্ত্রী নিয়েছেন, তা আগামী দিনে রাজ্যের কৃষি ও জলসম্পদ উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।