রেকর্ড লিডের ফলতায় পুনর্নির্বাচনের প্রচার, নিজের ‘নিরাপদ’ আসনেই কেন গরহাজির অভিষেক?
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহুচর্চিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ এবার বড়সড় রাজনৈতিক প্রশ্নের মুখে পড়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে যে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিনি রেকর্ড ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৩৭২ ভোটের লিড পেয়েছিলেন, সেই আসনেই এবার পুনর্নির্বাচনের ভোটপ্রচারে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ৭ লক্ষ ১০ হাজার ৯৩০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী সংসদ সদস্যের নিজের সবচেয়ে ‘নিরাপদ’ দুর্গে এই গরহাজির থাকা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বিস্মিত করেছে।
মডেলের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয়
ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতা এলাকাটিকে তৃণমূলের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এই আসনে পুনর্নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই আশা করা হয়েছিল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে মাঠে নেমে দলের প্রচারের হাল ধরবেন। তবে তাঁর এই অনুপস্থিতির কারণে বিরোধী শিবির ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’কে তীব্র কটাক্ষ করার সুযোগ পেয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মডেলের মূল ভিত্তি যেখানে ছিল সাংগঠনিক দৃঢ়তা ও একছত্র আধিপত্য, সেখানে পুনর্নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল সময়ে শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি দলের স্থানীয় কর্মীদের মনোবল কমিয়ে দিতে পারে।
ভোটের সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূল শিবিরের জন্য ফলতার পুনর্নির্বাচন অত্যন্ত মর্যাদার লড়াই। বিগত নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে আসা বিপুল লিডই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেকর্ড জয়ের পথ সুগম করেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং হেভিওয়েট প্রার্থীর প্রচার থেকে দূরত্ব বজায় রাখার ফলে ফলতার ভোট সমীকরণে বড় ধরনের রদবদল হতে পারে। বিরোধীরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের মনে শাসক দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করছে। এই আসনে যদি তৃণমূলের লিড উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, তবে তা কেবল ফলতা নয়, বরং সমগ্র ডায়মন্ড হারবার মডেলে ফাটল ধরার স্পষ্ট সংকেত হিসেবে গণ্য হবে।