তৃণমূলকে ‘বিরোধী দলের’ মর্যাদা দিতে নারাজ বিধানসভা, আইনি লড়াইয়ে আরটিআই করলেন শোভনদেব!
রাজ্য বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে এক নজিরবিহীন আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। বালিগঞ্জের প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে এখনো ‘বিরোধী দলনেতা’ (এলওপি) হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি বিধানসভার সচিবালয়। এই বঞ্চনার কারণ এবং নিয়মের গ্যাঁড়াকল স্পষ্ট করতে এবার সরাসরি তথ্য জানার অধিকার আইনে (RTI) আবেদন জানিয়েছেন এই বর্ষীয়ান নেতা, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
অভিষেকের স্বাক্ষরের ‘মূল্য নেই’ সচিবালয়ে
বিধানসভার সচিবালয় সূত্রের খবর, তৃণমূলের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার দাবি জানিয়ে যে আবেদনপত্র পাঠানো হয়েছিল, তাতে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর ছিল। তবে সচিবালয়ের এক পদস্থ আধিকারিক স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী দলের সাংগঠনিক পদের নেতার স্বাক্ষরের কোনো আইনি বৈধতা বা মূল্য বিধানসভার ভেতরে নেই। নিয়মানুযায়ী, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের চিঠিতে দলের নির্বাচিত বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠের সই বা পরিষদীয় দলের অনুমোদন আবশ্যক, যা তৃণমূলের আবেদনে ছিল না।
সংসদীয় সংঘাত ও সম্ভাব্য প্রভাব
নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে এই পদকে কেন্দ্র করে ঠান্ডা লড়াই চলছিল। সচিবালয়ের এই কঠোর অবস্থানের ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দল বড় ধরনের আইনি ও সাংগঠনিক অস্বস্তিতে পড়ল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শোভনদেবের এই আরটিআই আবেদনের জবাব এলে তা তৃণমূলের ভেতরের সাংগঠনিক সমন্বয়হীনতাকেই জনসমক্ষে নিয়ে আসবে। যদি দ্রুত দলের সমস্ত বিধায়কদের স্বাক্ষর সম্বলিত নতুন চিঠি জমা দেওয়া না হয়, তবে বিধানসভায় বিরোধী দলের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে প্রতিনিধিত্বের অধিকার হাতছাড়া হতে পারে ঘাসফুল শিবিরের।