বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৩০০ বছরের প্রাচীন স্থাপত্য, প্রশাসনের দ্বারস্থ ইয়াসিন পাঠান

মেদিনীপুরের ঐতিহাসিক মন্দিরময় পাথরায় বুলডোজার দিয়ে তিনশো বছরের প্রাচীন একটি ‘সুড়ঙ্গ অট্টালিকা’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ঐতিহ্য রক্ষায় সরব হয়েছেন মন্দিরময় পাথরার প্রাণপুরুষ ও কবীর পুরস্কারজয়ী সমাজকর্মী ইয়াসিন পাঠান। প্রাচীন এই ঐতিহাসিক স্থাপত্য ধ্বংসের বিরুদ্ধে তিনি ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন এবং ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের (এএসআই) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আইনি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

ঐতিহাসিক স্থাপত্য ধ্বংসের কারণ ও নেপথ্যের ঘটনা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাথরা এলাকার বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের মালিকানাধীন জমিতে এই সুপ্রাচীন সুড়ঙ্গ যুক্ত অট্টালিকাটি অবস্থিত ছিল। গত প্রায় ছয় মাস আগে ভবানীনগরের বাসিন্দা তথা এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী লালু পাল এই জায়গাটি কেনেন। অভিযোগ, ইতিহাস ও পুরাতাত্ত্বিক গুরুত্বকে তোয়াক্কা না করে সম্প্রতি লোকসভা নির্বাচনের প্রশাসনিক ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে তিনি বুলডোজার দিয়ে ওই প্রাচীন স্থাপত্যটি সম্পূর্ণ সমতল করে দেন। যদিও অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর দাবি, অট্টালিকাটি ভগ্নপ্রায় অবস্থায় থাকায় ইতিহাস না জেনেই তিনি এটি ভেঙে ফেলেছেন।

সংকটের গভীরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ধ্বংসলীলার ফলে মেদিনীপুরের বহু প্রাচীন ইতিহাসের একটি অমূল্য অংশ চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইয়াসিন পাঠানের মতে, মাটির উপরের অংশ সমতল করা হলেও ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গটি এখনও অক্ষত রয়েছে। তাই প্রাচীন ইট, চুন ও সুরকি সংগ্রহ করে স্থাপত্যটি পুনরায় পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব। এই ঘটনার পর জেলাজুড়ে হেরিটেজ বা প্রাচীন সম্পদ সংরক্ষণের আইনি কড়াকড়ি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠে গেছে। প্রশাসন যদি দ্রুত ওই ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রাচীন উপাদান উদ্ধার করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা না নেয়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *