তৃণমূল কি শূন্য হতে চলেছে? দেব ও রচনার দলত্যাগের খবরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!
টলিপাড়ার পর এবার রাজনীতির ময়দানেও বড়সড় কম্পন। লোকসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসে যখন তীব্র ভাঙন চলছে, ঠিক তখনই দল ছাড়ার তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে দুই তারকা সাংসদ দেব ও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা, গরু পাচার মামলার জট থেকে বাঁচতে এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বীতশ্রদ্ধ হয়ে এই দুই হেভিওয়েট তারকা ঘাসফুল শিবির ছেড়ে পদ্ম শিবিরে যোগ দিতে পারেন।
মমতার কাছে দেবের প্রস্তাব ও দলত্যাগের গুঞ্জন
সূত্রের খবর, ঘাটালের সাংসদ দেব ইতিমধ্যেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। এমনকি তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করার জন্য নেত্রীর কাছে প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। যদিও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও এই প্রস্তাবে আমল দেয়নি। টলিপাড়ার এই সুপারস্টারের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, দেব হয়তো রাজনীতি থেকে পুরোপুরি অবসর নিয়ে আবারও পুরোদস্তুর সিনেমায় মন দিতে চান। পাশাপাশি, হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও শোরগোল পড়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, রচনা সম্প্রতি দিল্লিতে গিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন এবং তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত একপ্রকার চূড়ান্ত করে ফেলেছেন।
‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ
সম্প্রতি অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসদের নিয়ে মন্তব্য করে দলের অন্দরে তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছেন দেব। স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেপ্তারি নিয়ে মুখ খুলে তৃণমূল সাংসদ বলেন, “আমাকে বলা হয়েছিল প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা রিলিজ করতে দেওয়া হবে না। ছবিতে মিঠুন চক্রবর্তী ছিলেন বলে নন্দনে শো পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। অরূপ বিশ্বাস, স্বরূপ বিশ্বাস দুজনেরই আমার ওপর ক্ষোভ ছিল। ওনারা চাইলে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি করতে পারতেন। স্বরূপের নির্দেশে বাংলাদেশের প্রযোজককে কলকাতায় এসে শুটিং করতে দেওয়া হয়নি। তৃণমূল এবার ভোটে জিতলে হয়তো আমাকে ব্যান-ই করে দেওয়া হতো। তবে বিশ্বাস ব্রাদার্স এখন সকলের কাছে হাসির পাত্র।”
বিপর্যস্ত তৃণমূল ও আগামী সমীকরণ
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এমনিতেই ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়ক দলনেত্রীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের নতুন পরিষদীয় নেতা নির্বাচন করেছেন। এই চরম ডামাডোলের মধ্যেই দেব ও রচনার মতো দুই অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখের চুপিসারে দলত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘাসফুল শিবিরের জন্য যে এক মস্ত বড় ধাক্কা, তা বলাই বাহুল্য।