সিএএ বিরোধী বিক্ষোভে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস! ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
নিজস্ব প্রতিবেদন: ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বিরোধী আন্দোলনের সময় রাজ্য জুড়ে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি সম্পত্তি নষ্টের মতো অপরাধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে, পুরনো সমস্ত অভিযোগ নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিলেন তিনি। রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তকে দ্রুত এই বিষয়ে সক্রিয় হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে ‘বিশেষ সেল’ গঠন:
প্রশাসনের এই নির্দেশের বাস্তবায়ন করতে ভবানীপুরে একটি ‘বিশেষ সেল’ গঠন করা হচ্ছে। সিএএ বিরোধী আন্দোলনের সময় হাওড়া, মুর্শিদাবাদ, উলুবেড়িয়া ও বেলডাঙার মতো এলাকায় রেল ও পুলিশের সম্পত্তিতে যে ব্যাপক তাণ্ডব ও লুটপাট হয়েছিল, এবার তার প্রতিটি ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। তদন্তে রেল পুলিশ (জিআরপি) তাদের সংগ্রহে থাকা সমস্ত তথ্য ও নথি দিয়ে রাজ্য পুলিশকে সহায়তা করবে, যাতে সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা যায়।
ক্ষতিপূরণ আদায়ের পথে প্রশাসন:
এই তদন্তের ক্ষেত্রে এক অনন্য পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। যদি তদন্তে কারও বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকেই সেই সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা আদায় করা হবে।
রাজনৈতিক বার্তা:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে সরকারি সম্পদ ভাঙচুর বা হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে প্রশাসন যে আর কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না, এই নির্দেশ তার অন্যতম বড় দৃষ্টান্ত। আগামী দিনে যেকোনো ধরনের হিংসাত্মক বিক্ষোভ দমনে এবং সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের এই ‘কঠোর নীতি’ একটি বড়সড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।