মেসি-কাণ্ডে বিপাকে অরূপ বিশ্বাস: সোমবারই হাজিরার কড়া নির্দেশ পুলিশের
নিজস্ব প্রতিবেদন: টিকিট কালোবাজারি ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ওপর ক্রমশই চেপে বসছে আইনি ফাঁস। মেসির ইভেন্ট ঘিরে যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল, তা এখন অরূপ বিশ্বাসের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
পুলিশি তলবের பின்னপট:
তদন্তের স্বার্থে গত ৪ জুন প্রাক্তন মন্ত্রীকে তলব করেছিল বিধাননগর পুলিশ। কিন্তু অসুস্থতার দোহাই দিয়ে দু’সপ্তাহের সময় চেয়ে আবেদন করেন অরূপ বিশ্বাস। পুলিশ সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। সোমবার, ৮ জুন সকাল ১১টার মধ্যে তাঁকে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় সশরীরে হাজিরার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের পাহাড়:
গত ১৭ মে ইভেন্ট আয়োজক শতদ্রু দত্তের দায়ের করা এফআইআর-এ চাঞ্চল্যকর সব অভিযোগ উঠে এসেছে:
- প্রায় ২২ হাজার টিকিটের কালোবাজারি।
- আয়োজকদের ভয় দেখানো ও চাঁদা দাবির অভিযোগ।
- প্রভাব খাটিয়ে মেসির সুরক্ষাবেষ্টনী ভেঙে ইভেন্টের শৃঙ্খলা নষ্ট ও গায়ে হাত দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ।
আইনি জটিলতায় অরূপ:
ইতিমধ্যেই এই মামলায় তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাস বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন। অরূপ বিশ্বাস বারাসাত আদালতে আগাম জামিনের আর্জি জানালেও তা খারিজ হয়ে গিয়েছে। যদিও তিনি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং ৯ জুন সেখানে শুনানির দিন ধার্য আছে। কিন্তু সেই শুনানির ঠিক আগের দিনই পুলিশি তলব রাজনীতির ময়দানে জল্পনার পারদ চড়িয়ে দিয়েছে।
গ্রেপ্তারের আশঙ্কা:
আইনজ্ঞদের মতে, সোমবারের হাজিরা এড়িয়ে গেলে বা তদন্তে সহযোগিতায় গড়িমসি করলে প্রাক্তন মন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের আইনি পথ পরিষ্কার হয়ে যাবে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানে শাসকদলের অন্দরেও তৈরি হয়েছে গভীর অস্বস্তি।
সোমবার সকাল ১১টায় অরূপ বিশ্বাস কি শেষ পর্যন্ত বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেবেন? নাকি হাই কোর্টের শুনানির অপেক্ষায় কোনো নতুন আইনি চাল চালবেন? কলকাতা থেকে ব্যারাকপুর—সবখানেই এখন এই একটিই প্রশ্ন। এই মামলার প্রতিটি মোড় এখন রাজ্য রাজনীতির গতিপথ বদলে দিতে পারে।