নিট কেলেঙ্কারির আঁচ: উত্তাল যন্তর মন্তর, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আল্টিমেটাম সিজেপি-র

নিজস্ব প্রতিবেদন, দিল্লি: নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একের পর এক দুর্নীতির ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিশাল বিক্ষোভ প্রদর্শন করল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। এই প্রতিবাদী কর্মসূচি থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভের মূল দিকগুলো:

  • বিশাল জমায়েত: সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে আয়োজিত এই বিক্ষোভ মিছিলে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এই প্রতিবাদে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক।
  • হুঁশিয়ারি: উদ্যোক্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে, এই আন্দোলন শুধুমাত্র দিল্লির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

সিজেপি-র ৫ দফা দাবি:

নিট কেলেঙ্কারির পাশাপাশি দেশের বিচারব্যবস্থা ও শাসনতন্ত্রের আমূল সংস্কারের লক্ষ্যে সংগঠনটি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেছে:

১. বিচার বিভাগীয় সংস্কার: অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিরা যাতে কোনো সরকারি লাভজনক পদে বা রাজ্যসভায় মনোনীত হতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

২. নির্বাচনী স্বচ্ছতা: ভোটার তালিকা থেকে বৈধ নাগরিকের নাম বাদ পড়লে তাকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ বলে গণ্য করতে হবে এবং এই গাফিলতির দায়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ‘ইউএপিএ’ (UAPA) আইনের আওতায় গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।

৩. মহিলা সংরক্ষণ: লোকসভা, রাজ্যসভা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে (সংসদের মোট আসন সংখ্যা অপরিবর্তিত রেখে)।

৪. সংবাদমাধ্যম সংস্কার: কর্পোরেট প্রভাবমুক্ত সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে বড় শিল্পগোষ্ঠীর মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিলের দাবি ও বিতর্কিত অ্যাঙ্করদের সম্পত্তির উৎস তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

৫. দলবদল বিরোধী আইন: দলবদলকারী সাংসদ বা বিধায়কদের ওপর আগামী ২০ বছরের জন্য নির্বাচনে লড়াই বা সরকারি পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানানো হয়েছে।

আন্দোলনের গুরুত্ব:

সাম্প্রতিক সময়ে প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির কারণে লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এই আন্দোলনের মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয়তার অভাবের মধ্যে তরুণ প্রজন্মের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদী আন্দোলন আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য বড় ধরণের রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপের কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সরকার যদি দ্রুত কোনো গঠনমূলক পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই আন্দোলন সামাজিক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলার সংকটে রূপ নেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *