মাঝরাতে জনশূন্য রাস্তায় একা তরুণী, রক্ষক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল সরকারি বাস!
কেরলের আলাপুঝা জেলায় গত রাতে এক অনন্য মানবিকতার সাক্ষী থাকল কেরালা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (KSRTC)। কোঝিকোড় থেকে পত্তনমতিট্টাগামী একটি সুপারফাস্ট বাস মাঝরাতে এস.এল.পুরম এলাকায় এক তরুণী যাত্রীকে নামিয়ে দেয়। এলাকাটি অত্যন্ত নির্জন ও অন্ধকারচ্ছন্ন হওয়ায় বাস থেকে নামার পর ওই তরুণীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন চালক অরুণ কুমার ও কন্ডাক্টর সুনীল। তরুণীর পরিবারের কেউ তাকে নিতে আসেনি জেনে তারা বাসটি না চালিয়ে সেখানেই অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন।
কর্তব্যবোধ ও মানবিকতার মেলবন্ধন
সাধারণত গণপরিবহনের ক্ষেত্রে সময়ের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ওই বাসের চালক ও কন্ডাক্টর তা উপেক্ষা করেন। তরুণীকে একা ফেলে চলে যাওয়া নিরাপদ নয় মনে করে তারা বাসটি থামিয়ে রাখেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় ছিল বাসের ভেতরে থাকা অন্যান্য যাত্রীদের ভূমিকা। সময়ের অপচয় নিয়ে অভিযোগ করার বদলে তারা প্রত্যেকেই একবাক্যে এই সিদ্ধান্তে সায় দেন এবং তরুণীর পরিবারের সদস্য না আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেন। প্রায় মধ্যরাতে জনশূন্য রাস্তায় একটি সরকারি বাস এভাবেই আক্ষরিক অর্থে সাধারণ মানুষের আশ্রয়ে পরিণত হয়।
সামাজিক প্রভাব ও প্রশংসার ঢেউ
এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক সাংবাদিক সমাজমাধ্যমে পুরো বিষয়টি প্রকাশ করলে তা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। কেরলের মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয় এই ‘আনাভান্দি’ (হাতি গাড়ি) তার মমত্ববোধের কারণে ‘আম্মাভান্দি’ বা মায়ের গাড়ির উপাধি পেয়েছে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, নিয়ম বা সময়সূচীর চেয়েও মানুষের নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সংহতি অনেক বেশি মূল্যবান। বর্তমানে ইন্টারনেটে এই বাসের কর্মী ও সহযাত্রীদের উদারতা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে, যা পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়ে সামাজিক দায়িত্ব পালনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
এক ঝলকে
- কেরলের আলাপুঝায় মাঝরাতে জনশূন্য স্থানে নামা এক তরুণীর নিরাপত্তায় দাঁড়িয়ে রইল সরকারি বাস।
- তরুণীর অভিভাবক না আসা পর্যন্ত ড্রাইভার ও কন্ডাক্টর বাস ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান।
- বাসের সাধারণ যাত্রীরাও কোনো প্রতিবাদ না করে তরুণীর সুরক্ষার স্বার্থে অপেক্ষা করেন।
- পেশাদারিত্বের ঊর্ধ্বে এই মানবিক আচরণ সমাজমাধ্যমে ‘মা’ হিসেবে বাসের ভূমিকার স্বীকৃতি পেয়েছে।