হোরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের দামামা এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন সংকট
পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা চরম মাত্রায় পৌঁছে দিয়ে হোরমুজ প্রণালী পুনর্নিবন্ধনের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, এই জলসীমায় যেকোনো বিদেশি জাহাজের প্রবেশকে ‘শত্রুপক্ষের সাথে সহযোগিতা’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সেসব লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি হামলা চালানো হবে। সম্প্রতি ‘জগ অর্ণব’ ও ‘সানমার হেরাল্ড’ নামক দুটি ভারতীয় তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানি বাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনার পর এই চরম হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সংঘাতের নেপথ্যে ভূ-রাজনীতি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ জারির ঘোষণার পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তেহরান এই কৌশলগত জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) স্পষ্ট করেছে যে, তারা মার্কিন কোনো হুমকি বা ঘোষণাকে তোয়াক্কা করে না। জাহাজ মালিকদের উদ্দেশ্যে তাদের কড়া নির্দেশ, মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য না শুনে শুধুমাত্র আইআরজিসি-র নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। বর্তমানে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে অবস্থানরত জাহাজগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্দরে নোঙ্গর করে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যে প্রভাব
বিশ্বের মোট খনিজ তেলের এক-তৃতীয়াংশ এই হোরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ বন্ধ থাকার অর্থ হলো বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি। একদিকে ইরান যখন কঠোর অবস্থানে, অন্যদিকে আমেরিকা রাশিয়ার তেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আগামী ১৬ মে পর্যন্ত শিথিল করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো গভীর সংকটে পড়েছে, কারণ ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহের প্রধান পথটি এখন কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
এক ঝলকে
- হোরমুজ প্রণালীতে কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে তাকে শত্রু হিসেবে গণ্য করে হামলার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
- ভারতীয় তেলবাহী ট্যাংকারে গুলিবর্ষণের পর ওই এলাকায় নৌ-চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
- মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং জাহাজগুলোকে বন্দরে নোঙ্গর করতে বলেছে।
- বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই রুটটি বন্ধ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।