ঝালমুড়ি বিরতিতে বিড়ম্বনায় হেমন্ত সোরেন, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা!
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আকস্মিক ‘ঝালমুড়ি বিরতি’ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল ঝাড়গ্রামে প্রচার শেষ করে ফেরার পথে রাস্তার ধারের একটি দোকান থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ঝালমুড়ি খেতে দেখা যায়। সামাজিক মাধ্যমে সেই ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হলেও, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস বড়সড় অভিযোগ উত্থাপন করেছে। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর এই দীর্ঘায়িত টিফিন বিরতি এবং ছবি তোলার আয়োজনের কারণে বিঘ্নিত হয়েছে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের পূর্বনির্ধারিত সফর।
তৃণমূলের ক্ষোভ ও অভিযোগ
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার কারণে সৃষ্ট কড়া নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং বিধায়ক কল্পনা সোরেনের হেলিকপ্টারকে ঝাড়গ্রামে নামার অনুমতি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর কোনো উপায় না দেখে তাঁরা রাঁচিতে ফিরে যেতে বাধ্য হন। তৃণমূলের দাবি, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একজন আদিবাসী নেতাকে এভাবে উপেক্ষা করা প্রধানমন্ত্রীর ‘আদিবাসী-বিরোধী’ মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।
নির্বাচনী আবহে প্রভাব
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে বাকযুদ্ধ চরমে পৌঁছেছে। তৃণমূলের মতে, প্রধানমন্ত্রী আদিবাসী ভোট পাওয়ার লক্ষ্যে ঝাড়গ্রামে গেলেও পরোক্ষভাবে সেখানকার প্রতিনিধিদেরই অপমান করেছেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই বিরতিকে কেবল একটি সাধারণ ব্যক্তিগত মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যেহেতু আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ দফার ভোট এবং ৪ মে ফলাফল ঘোষণা, তাই এই সংঘাত ভোটারদের মনে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এক ঝলকে
- ঝাড়গ্রামে প্রচারের ফাঁকে রাস্তার ধারের দোকান থেকে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল।
- প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার কারণে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের হেলিকপ্টার অবতরণে নিষেধাজ্ঞা।
- ঝাড়গ্রাম সফর বাতিল করে রাঁচি ফিরে যেতে বাধ্য হলেন সোরেন দম্পতি।
- ঘটনাটিকে ‘আদিবাসী নেতাদের অপমান’ বলে অভিহিত করে কড়া প্রতিক্রিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের।