মস্তিষ্কের রক্তনালি ছিঁড়ে যাওয়ার আগেই শরীর দিচ্ছে বড় সংকেত! অবহেলা করলেই নিশ্চিত মৃত্যু
মস্তিষ্কের কোনো ধমনী বা রক্তনালি ব্লক হয়ে গেলে অথবা ছিঁড়ে গেলে ব্রেন স্ট্রোকের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘ট্রান্সিয়েন্ট ইসকেমিক অ্যাটাক’ বা ‘মিনি ব্রেন স্ট্রোক’ বলা হয়। সাধারণত বড় কোনো স্ট্রোক হওয়ার অন্তত একদিন আগে শরীর কিছু বিশেষ লক্ষণ প্রকাশ করে। সময়মতো এই সংকেতগুলো চিনতে পারলে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
লক্ষণ ও শারীরিক পরিবর্তন
মিনি ব্রেন স্ট্রোকের ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের যেকোনো একপাশ হঠাৎ অবশ বা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এছাড়া কথা বলতে অসুবিধা হওয়া, হঠাৎ বিভ্রান্তি বোধ করা, চোখে দেখতে সমস্যা এবং শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। অনেক সময় রোগী তীব্র মাথা ঘোরানো বা হাঁটতে গিয়ে ভারসাম্যহীনতা অনুভব করেন। যদিও এই লক্ষণগুলো সাময়িক এবং অনেক ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেরে যায়, তবে একে অবহেলা করা মানেই বড় কোনো দুর্ঘটনার আমন্ত্রণ জানানো।
ঝুঁকি ও প্রতিকার
মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং অক্সিজেনের অভাবই এই সমস্যার মূল কারণ। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং উচ্চ রক্তচাপ এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রেন স্ট্রোক প্রতিরোধে খাদ্যাতালিকায় চর্বি ও লবণের পরিমাণ কমিয়ে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার রাখা জরুরি। নিয়মিত আপেল, স্ট্রবেরি, গাজর ও বিটের মতো ফল ও সবজি রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
এক ঝলকে
- শরীরের একপাশ হঠাৎ অবশ হওয়া বা ভারসাম্য হারানো মিনি ব্রেন স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণ।
- ব্রেন স্ট্রোকের আগে শরীর ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সতর্কবার্তা দেয় যা গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত।
- মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে সাময়িক বাধা বা অক্সিজেনের অভাব থেকে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়।
- লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে আঁশযুক্ত খাদ্যাভ্যাস স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর।