বিচারের দাবিতে সোচ্চার অভিষেক, দ্রুত ‘অপরাজিতা বিল’ কার্যকরের আর্জি প্রধানমন্ত্রীকে
আরজি কর কাণ্ডের আবহে বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে তিনি রাজ্য বিধানসভায় পাস হওয়া ‘অপরাজিতা বিল’-এ দ্রুত রাষ্ট্রপতির সই নিশ্চিত করার জন্য মোদী সরকারকে অনুরোধ জানান। এই বিলে ধর্ষণ ও খুনের মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে ৫০ দিনের মধ্যে কঠোর সাজার বিধান রাখা হয়েছে, যা বর্তমানে কেন্দ্রীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
বিজেপির বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ
পানিহাটির সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে দাবি করেন, যারা অপরাধীদের সম্মান জানায়, তাদের মুখে নারীসুরক্ষার কথা মানায় না। তিনি অভিযোগ করেন, আরজি করের মতো মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ন্যায়বিচারের বদলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি করে বিষয়টিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। সেই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল রাজ্য পুলিশ এবং সরকারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে।
রাজনৈতিক উত্তাপ ও আসন্ন নির্বাচন
নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে অভিষেক তৃণমূল কর্মীদের নির্দেশ দেন যেন নিহত চিকিৎসকের মায়ের প্রতি কোনো ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ না করা হয়। শোকাতুর পরিবার ভুল করতে পারে—এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দুই দফায় বিধানসভা উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যার ফলাফল জানা যাবে ৪ মে। নির্বাচনের প্রাক্কালে এই বিল কার্যকর করার দাবি রাজনৈতিক মহলে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এক ঝলকে
- আরজি কর কাণ্ডে দ্রুত ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে ‘অপরাজিতা বিল’ অনুমোদনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
- প্রস্তাবিত এই আইনে ধর্ষণের অপরাধীদের ৫০ দিনের মধ্যে সাজা নিশ্চিত করার বিধান রয়েছে।
- বিজেপি এই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে রাজনীতিকরণ করছে বলে পানিহাটির প্রচার সভায় অভিযোগ তোলেন তৃণমূল নেতা।
- নিহত চিকিৎসকের পরিবারের প্রতি সংবেদনশীল থাকার জন্য দলীয় কর্মীদের বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে।