শিশুমৃত্যুর শোকে ফুঁসছে মণিপুর, এবার সাত দিনের টানা বনধের ডাক
মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলায় সাম্প্রতিক বোমা হামলায় দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রংলাওবি এলাকায় হওয়া এই হামলার প্রতিবাদে এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে এবার দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের পথে হেঁটেছে স্থানীয় নাগরিক সংগঠনগুলো। মণিপুরের প্রভাবশালী মহিলা সংগঠন ‘মেইরা পাইবি’ তাদের পূর্ব ঘোষিত পাঁচ দিনের বনধ কর্মসূচির মেয়াদ বাড়িয়ে এখন টানা সাত দিনের ডাক দিয়েছে।
বিক্ষোভের নেপথ্যে শোক ও সংঘাত
গত ৭ এপ্রিল বিষ্ণুপুর জেলার ট্রংলাওবি গ্রামে অতর্কিত এক বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এই নৃশংস ঘটনায় মাত্র পাঁচ বছরের এক শিশু এবং পাঁচ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়। নিরীহ শিশুদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়। এই হামলার প্রতিবাদ জানাতেই মেইরা পাইবি গোষ্ঠীগুলো কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
প্রভাব ও নিরাপত্তা শঙ্কা
টানা সাত দিনের এই বনধের ফলে মণিপুরের বিষ্ণুপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে জনজীবন স্থবির হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে দোকানপাট, যানবাহন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই আন্দোলনকারীরা এই পথ বেছে নিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চললেও নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
এক ঝলকে
- বিষ্ণুপুর জেলার ট্রংলাওবি এলাকায় বোমা হামলায় দুই শিশুর মৃত্যুতে রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ।
- প্রভাবশালী মহিলা সংগঠন ‘মেইরা পাইবি’ ৫ দিনের বনধ বাড়িয়ে ৭ দিন ঘোষণা করেছে।
- ৫ বছরের এক শিশু ও ৫ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুর প্রাণহানির প্রতিবাদে এই আন্দোলন।
- দীর্ঘ বনধের কারণে মণিপুরের জনজীবন ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থবিরতার আশঙ্কা।