ডিপিডিপি আইন চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা এবং কেন্দ্রের কাছে জবাব তলব
ডিজিটাল ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষা (DPDP) আইনের বিভিন্ন বিধানের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দায়ের করা নতুন একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই নির্দেশ প্রদান করেন। মামলাটিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই আইনের কিছু ধারা সরাসরি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও ডিজিটাল অ্যারেস্ট প্রসঙ্গ
সোমবার (২০ এপ্রিল) শুনানির সময় আদালত কেবল ডেটা সুরক্ষা নয়, বরং বর্তমান সময়ে ক্রমবর্ধমান ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিচারপতি সূর্যকান্ত মন্তব্য করেন যে, অত্যন্ত শিক্ষিত ব্যক্তিরাও যেভাবে এই অপরাধের শিকার হচ্ছেন, তা অত্যন্ত চমকপ্রদ।
শুনানি চলাকালীন আবেদনকারীর আইনজীবী ইন্টারমিডিয়ারি বা মধ্যস্থতাকারী প্ল্যাটফর্মগুলোতে একটি ‘কিল সুইচ’ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন, যাতে অপরাধমূলক কার্যক্রম দ্রুত বন্ধ করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি আদালতকে জানান যে, আন্তঃবিভাগীয় বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রাপ্ত অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
সাংবাদিকতা ও তথ্যের অধিকার নিয়ে বিতর্ক
এর আগে ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখেও আদালত এই আইনের ধারা ৪৪(৩) চ্যালেঞ্জ করে করা একটি আবেদনে কেন্দ্রকে নোটিশ দিয়েছিল। বিতর্কিত এই ধারাটি তথ্যের অধিকার (RTI) আইনের ৮(১)(j) ধারাকে সংশোধন করার প্রস্তাব দেয়, যা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ওপর বিশেষ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সামাজিক কর্মী অরুণা রায়, নিখিল দে এবং শঙ্কর সিং রাওয়াতসহ ‘মজদুর কিষাণ শক্তি সংগঠন’ এই জনহিতকর মামলাটি দায়ের করেছে। তাদের দাবি, এর ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বিঘ্নিত হবে।
মামলার ভবিষ্যৎ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ
সুপ্রিম কোর্ট মামলাটিকে আগামী ১৩ মে পরবর্তী শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করেছে। একই সঙ্গে এই আইনি প্রক্রিয়ায় রাজস্থান সরকারকে একটি পক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকতা ও তথ্যের অধিকারের ওপর এই আইনের প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
একঝলকে
- কেন্দ্রকে নোটিশ: ডিপিডিপি (DPDP) আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের।
- মতপ্রকাশে বাধা: সাংবাদিকতা ও বাক-স্বাধীনতার ওপর নিষেধাজ্ঞার অভিযোগ।
- আরটিআই সংশোধন: আরটিআই আইনের ধারা সংশোধনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য গোপনের প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ।
- ডিজিটাল অ্যারেস্ট: শিক্ষিত ব্যক্তিদের ডিজিটাল প্রতারণার শিকার হওয়া নিয়ে আদালতের উদ্বেগ।
- পরবর্তী শুনানি: ১৩ মে ২০২৬ তারিখে এই সংক্রান্ত সকল মামলার যৌথ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।