গঙ্গা-যমুনা সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি: ঝাড়খণ্ডে মুসলিম অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে সম্মান জানিয়ে বাদ্যযন্ত্র থামালো হিন্দু জনতা

ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগে রাম নবমীর শোভাযাত্রা চলাকালীন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক বিরল ও মানবিক দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। গত ২৯ মার্চ ২০History২৬ তারিখে উদযাপিত এই উৎসবে দেখা যায়, একটি বিশাল হিন্দু শোভাযাত্রা তাদের উচ্চশব্দের ডিজে সংগীত স্বেচ্ছায় বন্ধ করে দেয়। মূলত একটি মুসলিম অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বা জানাজার মিছিলকে সসম্মানে পথ করে দিতেই পুণ্যার্থীরা এই সিদ্ধান্ত নেন।

সম্প্রীতির অনন্য নজির
ভিডিওটিতে দেখা যায়, হাজারিবাগের প্রধান সড়ক দিয়ে যখন গেরুয়া পতাকা ও ডিজে সংগীত সহযোগে রাম নবমীর মিছিল এগোচ্ছিল, ঠিক সেই সময় সেখানে একটি জানাজার মিছিল এসে পৌঁছায়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে পুণ্যার্থীরা তৎক্ষণাৎ ডিজে অপারেটরদের গান বন্ধ করার সংকেত দেন। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার শোকসন্তপ্ত মিছিলটি পার না হওয়া পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করেন এবং দুই সারিতে দাঁড়িয়ে রাস্তা ছেড়ে দেন।

প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনাটি কেবল ভারতেই নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও নজর কেড়েছে। নেটিজেনরা একে ‘হাজারিবাগ মডেল’ হিসেবে অভিহিত করছেন। প্রশাসনের কোনো নির্দেশ ছাড়াই সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগে জনতা যে শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শন করেছে, তাকে ভারতীয় ‘গঙ্গা-যমুনি তহজিব’ বা মিশ্র সংস্কৃতির সার্থক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এই আচরণ দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিশ্বাস ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও মজবুত করবে।

এক ঝলকে

  • রাম নবমীর শোভাযাত্রার মাঝপথে জানাজার মিছিল চলে আসায় ডিজে সংগীত বন্ধ করে দেন পুণ্যার্থীরা।
  • হাজারিবাগের প্রধান সড়কে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুসলিম অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে পথ ছেড়ে দেওয়া হয়।
  • ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোটি কোটি দর্শক দেখেছেন এবং ‘হাজারিবাগ মডেল’ নামে ভাইরাল হয়েছে।
  • উৎসবে ধর্মীয় আচারের চেয়ে মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে প্রাধান্য দিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *