অপহরণের মিথ্যে গল্প ফেঁদেও শেষ রক্ষা হলো না; পুলিশি জেরায় স্বীকারোক্তি ঘাতক মায়ের, উদ্ধার নিথর দেহ

ছত্তিশগড়ের রায়গড় জেলার কপু থানা এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় নিজের আড়াই বছরের সন্তানকে পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছেন এক মা। গত ১৬ এপ্রিল গ্রাম পਾਰੇমের ফিটিংপাড়ার বাসিন্দা অনুজ মাঝওয়ার নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। দীর্ঘ তল্লাশির পর ১৮ এপ্রিল রানীগৌবা পাহাড়ের গভীর খাদ থেকে শিশুটির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।

তদন্ত ও অপরাধ স্বীকার

প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত মা সোনমতি সরোতি মাঝওয়ার অপহরণের গল্প ফেঁদে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে রায়গড় পুলিশের বৈজ্ঞানিক তদন্ত এবং নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি ভেঙে পড়েন এবং নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা পাথর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে।

হত্যার নেপথ্যে রাগ ও ক্লান্তি

তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন সোনমতি তার দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথে বড় মেয়েকে বাড়িতে ফেরত পাঠিয়ে দিলেও ছেলেকে নিয়ে তিনি পাহাড়ের রাস্তা দিয়ে এগোতে থাকেন। অভিযুক্তের দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘ পথ চলায় ক্লান্তি এবং হঠাৎ জেঁকে বসা রাগের বশবর্তী হয়ে তিনি শিশুটিকে মাটিতে আছাড় মারেন এবং পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

রায়গড়ের পুলিশ সুপার শশী মোহন সিং জানিয়েছেন, এই ধরনের জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। অভিযুক্ত মাকে গ্রেফতার করে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এক ঝলকে

  • ছত্তিশগড়ের রায়গড়ে আড়াই বছরের ছেলেকে পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছেন তার গর্ভধারিণী মা।
  • গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ থাকার পর ১৮ এপ্রিল পাহাড়ের খাদ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
  • পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে অভিযুক্ত মা স্বীকার করেছেন যে, ক্লান্তি ও রাগের মাথায় তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
  • অভিযুক্ত সোনমতি সরোতি মাঝওয়ারকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *