শহিদ পরিবারের জন্য মাসে ১০ হাজার, তৃণমূলের ফান্ডের দখল ঘিরে তুঙ্গে সংঘাত!
তৃণমূল কংগ্রেসের ‘আসল’ বনাম ‘নকল’ দ্বন্দ্বে এবার দলীয় তহবিলের দখলদারি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার মেয়র রোডের জনসভা থেকে বিদ্রোহী তৃণমূলের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, নির্বাচন কমিশন তাঁদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলে দলীয় তহবিল থেকে ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের শহিদ পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। অন্যদিকে, কালীঘাটের তৃণমূল শিবিরে আয়োজিত শহিদ সমাবেশ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দলের প্রতীক ও তহবিল—কোনোটিই তিনি বিনা লড়াইয়ে ছাড়বেন না। প্রয়োজনে এই আইনি লড়াই সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
দলীয় ফান্ডের এই লড়াইয়ের পাশাপাশি একুশে জুলাই কমিশন রিপোর্ট নিয়েও রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আড়াল করতেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই রিপোর্ট ধামাচাপা দিয়েছিলেন। পাশাপাশি কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শহিদদের নিয়ে রাজনৈতিক ব্যবসার অভিযোগ তুলেছেন। যদিও কালীঘাট শিবিরের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বদা শহিদ পরিবারের পাশে থেকেছেন। এছাড়া, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও পাল্টা কটাক্ষ করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। বর্তমানে ‘আসল তৃণমূল’ নির্ধারণের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের বিচারাধীন রয়েছে।