ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র ও মানবপাচার কাণ্ড: রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য, নড়েচড়ে বসল প্রশাসন!
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু করার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসায় রাজ্যজুড়ে কঠোর নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্বাচনের পর প্রশাসনের কাছে আসা একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, নিয়ম থাকা সত্ত্বেও বহু ক্ষেত্রে ভুয়ো শংসাপত্রের হদিস মিলেছে এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত কাউকে রেয়াত করা হবে না। এই যাচাই প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র সরকারি কর্মীদের মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হচ্ছে, যা দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসনের একটি বড় পদক্ষেপ।
বীরভূম, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় রেজিস্টার খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। তদন্তে জানা গেছে, গত বছর সীমান্তবর্তী জেলায় ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র ব্যবহার করে পাসপোর্ট পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে এক প্রাক্তন পুলিশকর্মী ও ডাক বিভাগের কর্মী রয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক পঞ্চায়েতের অস্থায়ী কর্মী গৌতম সর্দার একাই সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি ভুয়ো শংসাপত্র ইস্যু করেছিলেন। এই জাল নথিপত্র ব্যবহার করে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস ও কানাডার মতো দেশে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র সক্রিয় ছিল বলে পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে।