আরজি কর কাণ্ড: তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে নির্মল ঘোষসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে FIR!
বার্তা ডেস্কঃ
আরজি কর কাণ্ড নিয়ে তদন্তের গতি বাড়াতে এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগের উত্তর খুঁজতে আবারও নতুন করে আইনি তৎপরতা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি নিহত চিকিৎসক-পড়ুয়ার একটি স্মরণসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং নিহতের পরিবার উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকেই রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা ও শ্মশানের ঘটনাবলী নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়। এরপরই ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে নিহতের বাবার পক্ষ থেকে একটি নতুন লিখিত অভিযোগ (FIR) দায়ের করা হয়েছে।
এই নতুন এফআইআরে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাট করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
জলহাটির লোকসংস্কৃতি ভবনে আয়োজিত নিহত চিকিৎসকের স্মরণসভা থেকে অভিযোগ ওঠে যে, ঘটনার দিন অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে নিহতের দেহ দাহ করা হয়েছিল। জলহাটির তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় নামের তিন ব্যক্তির ভূমিকা সেখানে অত্যন্ত সন্দেহজনক ছিল বলে দাবি করা হয়। এই বক্তব্যের পরেই ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে এফআইআর রুজু করা হয়। এমনকি দাহকার্যের সময় পরিবারের কাছ থেকে কেন কোনও অর্থ নেওয়া হয়নি এবং প্রক্রিয়ায় নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও নতুন করে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগ অনুসারে, ঘোলা থানার অন্তর্গত নাটাগড় কদমতলা শ্মশানে দাহকার্য প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছিল। দাহ করার নির্ধারিত সিরিয়াল নম্বর ৩ থাকলেও, রাতারাতি তা বদলে ১ নম্বর করে তড়িঘড়ি সৎকার সম্পন্ন করা হয়। শ্মশানের নিয়মমাফিক খরচ পরিবার থেকে নেওয়া হয়নি, এমনকি পরিবারের নিকটাত্মীয়ের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষরও সেখানে অনুপস্থিত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। প্রভাবশালী যোগ থাকার কারণেই এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সিবিআই এবং আদালতের নিজস্ব প্রক্রিয়ার পাশাপাশি, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে সমস্ত অস্পষ্ট প্রশ্নের উত্তর যাতে সামনে আনা হয়, সেই দাবিও জোরালো হচ্ছে।