সিলেবাসে এবার বীর বিপ্লবীর ইতিহাস, ক্ষুদিরামের আত্মবলিদানে মেদিনীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা!
বার্তা ডেস্কঃ
স্বাধীনতার অন্যতম অমর প্রতীক শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর সংগ্রামী জীবন এতদিন পাঠ্যপুস্তকের হাতে গোনা কয়েকটি লাইনেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবার থেকে সেই চিত্রে বড় বদল আসতে চলেছে। প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—সব স্তরের সিলেবাসেই যুক্ত হতে চলেছে তাঁর জীবনের পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তৃত অধ্যায়।
মঙ্গলবার ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবসে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরে, বীর শহিদের জন্মভিটে মোহবনিতে দাঁড়িয়ে এই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
“৪ লাইনে ক্ষুদিরামকে শেষ করা চলবে না”
শহিদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানানোর পর জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এতদিন ক্ষুদিরাম বসুর প্রতি পাঠ্যক্রমে চরম অন্যায় করা হয়েছে। তিনি কড়া ভাষায় নির্দেশ দেন:
“সিলেবাসে মাত্র চার লাইনে ক্ষুদিরাম বসুকে নিয়ে আলোচনা শেষ করলে হবে না। তাঁর জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে এবার থেকে প্রতিটি স্তরে একটি সম্পূর্ণ অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”
বাম আমল ও বঞ্চনার ইতিহাস নিয়ে তোপ
জনসভা থেকে মেদিনীপুরের বঞ্চনা নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম জমানায় মেদিনীপুরের প্রকৃত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবদানকে আড়ালে রাখা হয়েছিল। মেদিনীপুরের এক ভূমিপুত্র হিসেবে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রায় ৪৯ বছর ধরে এই অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সর্বস্তরে জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেম ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যের কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
মোহবনির উন্নয়নে ৫ কোটি টাকার প্যাকেজ
শুধু শিক্ষার জগতেই নয়, ক্ষুদিরামের জন্মভিটে মোহবনি গ্রামের পরিকাঠামো ও সামগ্রিক রূপান্তরের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, ‘মোহবনি উন্নয়ন পর্ষদ’-কে এলাকাটির সার্বিক উন্নয়নের জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এদিন কেশপুর যাওয়ার পথে আবহাওয়া খারাপ থাকায় মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টারটি কোলাঘাটে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। তবে প্রাকৃতিক বাধা পেরিয়ে সড়কপথেই তিনি কেশপুরে পৌঁছান এবং এই বড় সিদ্ধান্তগুলোর কথা ঘোষণা করেন।