PCOS বিদায়, এবার কি তবে PMOS আসার পালা?
বার্তা ডেস্কঃ
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি নারী যে শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হন, এতদিন তা পরিচিত ছিল ‘পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম’ বা PCOS নামে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাবনায় এবার আসতে চলেছে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। রোগটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে Polyendocrine Metabolic Ovarian Syndrome (PMOS)। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
বিজ্ঞানীদের মতে, কেবল ‘ওভারি’ বা জরায়ুর মধ্যে রোগটিকে সীমিত না রেখে, এর সামগ্রিক হরমোনগত ও মেটাবলিক (বিপাকীয়) প্রভাবকে স্বীকৃতি দিতেই এই সিদ্ধান্ত।
পুরনো নাম নিয়ে কেন তৈরি হতো বিভ্রান্তি?
বহু বছর ধরে চিকিৎসকরা লক্ষ্য করেছেন ‘পলিসিস্টিক’ শব্দটি রোগী ও সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করে। নাম শুনে মনে হতে পারে ওভারিতে সিস্ট থাকাটাই এই রোগের মূল লক্ষণ। কিন্তু বাস্তবতা হলো:
- ভুল ধারণা: ওভারিতে থাকা ছোট ফলিকলগুলো প্রকৃতপক্ষে প্যাথলজিক্যাল সিস্ট নয়।
- সবার ক্ষেত্রে নয়: অনেক নারীর ক্ষেত্রে ওভারির এই বিশেষ গঠনগত পরিবর্তন না থাকলেও তারা এই রোগের শিকার হন।
- জটিল উপসর্গ: এটি মূলত হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং মেটাবলিক বিঘ্নজনিত একটি বহু-সিস্টেম ব্যাধি।
আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরনো নামটির কারণে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়ে বাধা আসত এবং রোগীর মনস্তাত্ত্বিক বিভ্রান্তি বাড়ত।
‘PMOS’ নামের পেছনের মূল অর্থ
নতুন নামের প্রতিটি শব্দই রোগটির একেকটি গভীর মাত্রাকে তুলে ধরে:
| নাম অংশ | তাৎপর্য |
| Polyendocrine | শরীরে একাধিক হরমোনের ভারসাম্যহীনতাকে নির্দেশ করে। |
| Metabolic | ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও বিপাকীয় ক্রিয়ার গোলযোগকে গুরুত্ব দেয়। |
| Ovarian | নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য ও ডিম্বাশয়ের ভূমিকা বজায় রাখে। |
এক নজরে পরিসংখ্যান: অ্যান্ডোক্রাইন সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি ৮ জন নারীর মধ্যে ১ জন (প্রায় ১৭০ মিলিয়নেরও বেশি) এই সমস্যায় ভোগেন। অনিয়মিত মাসিক, ওজন বৃদ্ধি, ত্বকের সমস্যা, বন্ধ্যাত্ব এবং মানসিক অবসাদ এর অন্যতম উপসর্গ।
১৪ বছরের বৈশ্বিক গবেষণা ও ভারতের গুরুত্ব
এটি হঠাৎ করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। প্রফেসর হেলেনা টিডের নেতৃত্বে বিশ্বজুড়ে ৫৬টি শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং রোগীদের মতামত নিয়ে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে সমীক্ষা চালানোর পর এই আন্তর্জাতিক সর্বসম্মতি এসেছে।
ভারতীয় প্রেক্ষাপটে এটি কেন জরুরি?
দক্ষিণ এশিয়ায় বিশেষ করে ভারতে নারীদের মধ্যে মেটাবলিক ঝুঁকি অনেকটাই বেশি। এতকাল ভারতে এই ব্যাধিকে কেবল অনিয়মিত মাসিক বা ব্রণ ওঠার মতো উপসর্গ দিয়ে মাপা হতো। নাম পরিবর্তনের ফলে এখন থেকে চিকিৎসকরা মেটাবলিক ও হরমোনজনিত বিষয়গুলোকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সামগ্রিক চিকিৎসা করতে পারবেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে নারীদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা আরও বৃদ্ধি করবে এবং চিকিৎসাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।