ছোট থেকেই সন্তানদের শেখাতে হবে গীতা, সমাজ বদলের ডাক মুখ্যমন্ত্রীর!
বার্তা ডেস্কঃ
দক্ষিণেশ্বর: মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বুধবার সকালে তিনি দক্ষিণেশ্বরের ঐতিহাসিক আদ্যাপীঠ মন্দিরে পৌঁছান। সেখানে পুজো দেওয়া ও আরতিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি একাধিক সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের শুভ সূচনা করেন তিনি।
আদ্যাপীঠে দিনভর নানা কর্মসূচি
মন্দিরে পৌঁছালে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রথা অনুযায়ী প্রসাদী মালা পরিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান আদ্যাপীঠের অধ্যক্ষ ব্রহ্মচারী মুরাল ভাই। এরপর মুখ্যমন্ত্রী একে একে বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেন:
- উদ্বোধন: মন্দিরের নতুন সাজে সজ্জিত মূল ফটক এবং নবনির্মিত ‘মাতৃ আশ্রম’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
- পরিদর্শন: মন্দিরের গোশালা ঘুরে দেখেন এবং সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটান।
- প্রার্থনা: রাধাকৃষ্ণের মূল মন্দিরে পুজো দিয়ে রাজ্যবাসীর সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
- জনসেবা: সাধারণ মানুষের জরুরি চিকিৎসার সুবিধার জন্য একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার শুভ সূচনা করেন।
- মেলামেশা: মন্দির প্রাঙ্গণে অবস্থিত বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন ও তাদের খোঁজখবর নেন।
সমাজ গঠনে আধ্যাত্মিকতা ও সনাতনী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা
আদ্যাপীঠের সভা থেকে সনাতনী প্রতিষ্ঠানগুলির সামাজিক অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সেবামূলক কাজের পাশাপাশি যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বন্যায় এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলি সরকারের আগেই সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।
সমাজ সংস্কার ও নৈতিক চেতনার জাগরণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি গুরুত্বের সঙ্গে জানান, মানুষের মধ্যে আত্মসচেতনতা বা শুভবুদ্ধি জেগে ওঠা অত্যন্ত জরুরি। অন্যায় ও পাপবোধ থেকে দূরে রাখতে ছোটবেলা থেকেই শিশুকন্যাদের গীতা পাঠ করানোর ওপর জোর দেন তিনি। এর পাশাপাশি গেরুয়া বস্ত্রের প্রকৃত অর্থ ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, “গেরুয়া কোনো রাজনৈতিক রং নয়; এটি শৌর্য, ত্যাগ, কৃচ্ছ্রসাধন ও সংযমের প্রতীক।”