১৭টি অফিস আর ২৫০ কর্মী কোথায়, সুপ্রিম কোর্টে হিসেব দিতে গিয়ে বিপাকে তৃণমূল!

বার্তা ডেস্কঃ

আদালতে পেশ করা হিসেবই এখন ঘাসফুল শিবিরের গলার কাঁটা! ১৭টি পার্টি অফিস আর ২৫০ জন কর্মীর খরচের খতিয়ান নিয়ে তৃণমূলের ওপর চাপ বাড়াল বিরোধী শিবির।

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়া মামলায় সুপ্রিম কোর্টে দলের তীব্র আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরেছিলেন তৃণমূলের প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। কিন্তু সেই হিসেবকেই এবার শাসকদলের বিরুদ্ধে ধারালো রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বিরোধী দলগুলি। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূলের পেশ করা আর্থিক তথ্যের সত্যতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “আদালতে দাবি করা এই ১৭টি পার্টি অফিস বাস্তবে কোথায়? আমরা তো বড়জোর একটা-দুটোর কথা জানি। চার্টার্ড মাফিয়ার অফিস ধরলেও বড়জোর তিনটে হতে পারে! কিন্তু বাকি অফিসগুলো আসলে কোথায় রয়েছে?”

শুধু পার্টি অফিসই নয়, সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে তৃণমূলের কর্মীদের তালিকা নিয়েও। আদালতে সিব্বল জানিয়েছিলেন, দলের ২৫০ জন স্থায়ী কর্মীর বেতন বাবদ প্রতি মাসে ৫৩ লক্ষ টাকারও বেশি খরচ হয়। বিরোধীদের প্রশ্ন, এই আড়াইশো কর্মী কি আদতেই আছেন, নাকি কেবল কাগজে-কলমে? তাঁদের নিয়োগ ও বেতনের প্রকৃত তথ্য খতিয়ে দেখার জন্য প্রয়োজনবোধে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, তৃণমূলের এই ‘আর্থিক সংকট’-এর দাবিকে শুরু থেকেই মানতে নারাজ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্ট ছাড়াও তৃণমূলের অন্যান্য সচল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১২০ কোটি টাকা জমা রয়েছে, যা দিয়ে অনায়াসেই সব খরচ চালানো সম্ভব। সব মিলিয়ে, নিজেদের দেওয়া হিসেব দিয়েই এখন রাজনীতির ময়দানে কোণঠাসা শাসকদল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *