লালকেল্লা থেকে মোদীর ঐতিহাসিক বার্তা, এবার কি বদলে যাচ্ছে ভারতের ভবিষ্যৎ!

বার্তা ডেস্কঃ

৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার ঐতিহাসিক প্রাচীর থেকে দেশকে এক নতুন ভবিষ্যতের দিশা দেখালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী দিনে ভারতকে বিশ্বমঞ্চে শীর্ষস্থানে পৌঁছে দিতে তিনি উন্মোচন করলেন ‘সপ্তশক্তি’র বিশেষ রূপরেখা।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই সাতটি মূল শক্তিই হবে সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভর ভারতের ভিত্তিপ্রস্তর: ১. উৎপাদন শক্তি (Manufacturing) ২. কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ (Agriculture & Food Processing) ৩. প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন (Technology & Innovation) ৪. গতি শক্তি (Gati Shakti & Logistics) ৫. প্রতিরক্ষা শক্তি (Defense) ৬. সবুজ ও নীল অর্থনীতি (Green & Blue Economy) ৭. ভারতের সফট পাওয়ার (Soft Power)

বিশ্বমানের পণ্য ও দেশীয় উৎপাদন:

শিল্পপতিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উৎপাদিত পণ্যের গুণমানের সঙ্গে কোনো আপস করা চলবে না। নকশা থেকে যন্ত্রাংশ তৈরি—সম্পূর্ণ দেশীয় সাপ্লাই চেন গড়ে তুলতে হবে, যার লক্ষ্য হবে ‘জিরো-ডিফেক্ট’ এবং বিশ্বমানের তৈরি।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক দশকে বিশ্বের সেরা ‘ফরচুন ৫০০’ তালিকায় অন্তত ৫০টি ভারতীয় সংস্থাকে দেখা যাবে।

রেকর্ড বৃদ্ধি ও কৃষি খাত:

মোদী উল্লেখ করেন, গত ১২ বছরে ভারতের উন্নয়ন অভূতপূর্ব গতি পেয়েছে:

  • প্রতিরক্ষা উৎপাদন বেড়েছে ৪ গুণ
  • খাদি ও গ্রামীণ শিল্প বেড়েছে ৫ গুণ
  • ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন ৭ গুণ
  • রেল কোচ নির্মাণ ২১ গুণ
  • মোবাইল ফোন উৎপাদন বেড়ে পৌঁছেছে ৩৩ গুণে

কৃষি ক্ষেত্রে ‘ফার্ম-টু-এক্সপোর্ট’ সাপ্লাই চেন এবং রাসায়নিক মুক্ত চাষের ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি। বিশ্বজুড়ে সারের সংকট সত্ত্বেও ভারতীয় কৃষকদের ওপর বাড়তি দামের বোঝা চাপানো হয়নি বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

প্রযুক্তি ও তরুণদের জন্য উপহার:

ভারতকে বৈশ্বিক উদ্ভাবনের কেন্দ্রে পরিণত করতে AI, কোয়ান্টাম কম্পিউটার, স্পেস, রোবোটিক্স এবং স্বদেশী 6G প্রযুক্তিতে জোর দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

  • বিশেষ ঘোষণা: আগামী ১ বছরে দেশের ১ কোটি তরুণ-তরুণীকে AI ট্রেনিং দেওয়া হবে।
  • প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া পড়ুয়াদের জন্য চালু হবে বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং

প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক শক্তি:

  • প্রতিরক্ষা: ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন ও হাইপারসনিক প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভর হয়ে ভারত এখন প্রতিরক্ষা সামগ্রী রপ্তানির দিকে এগোচ্ছে।
  • সবুজ ও নীল অর্থনীতি: গ্রিন হাইড্রোজেন, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং সামুদ্রিক সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
  • সফট পাওয়ার: যোগ, আয়ুর্বেদ ও পর্যটনের পাশাপাশি গেমিং, VFX, অ্যানিমেশন এবং ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে বিশ্বজুড়ে ভারতীয় সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *